আবু বক্কর সিদ্দিকির মৃত্যুদিনে সরকারি ছুটির দাবি

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ ফুরফুরা শরিফে আজ সোমবার গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে ইফতারে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। দশ বছর পর তাঁর ফুরফুরা শরিফ সফর রাজনৈতিক কি না তা নিয়ে দিনভর তরজা চলে বাঙলার রাজনীতির আঙিনায়। এদিন তাঁর সফর সঙ্গী ছিলেন  মমতার সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার ও হুগলির জেলাশাসক মুক্তা আর্য। ছিলেন রাজ্যের পদস্থ আধিকারিকরাও।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবু বাক্কার সিদ্দিকির মৃত্যুদিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি তোলেন পীরজাদারা। ফুরফুরা শরিফে রাজ্য সরকার ‘কোটি কোটি’ টাকা খরচ করে উন্নয়ন করেছেন বলেও অনেকে মনে করেন। কিন্তু হুগলিতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিও এদিন তোলেন আমন্ত্রিত পীরজাদারা। নুরেল্লা সিদ্দিকি বলেন, ” মুখ্যমন্ত্রীকে অনেক কিছুই বলার ছিল। কিন্তু সময় অনেক কম। এই সময়ে মধ্যে তাঁর কাছে মোজাদ্দেদ জামান আবু বাক্কার সিদ্দিকের নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি করছি।” শুধু তাই নয়, তিনি আরও বলেন, ” রাজ্যের মাদ্রাসাগুলির দিকে নজর দিক সরকার।”

এদিন এ বিষয়ে কোনও প্রতিশ্রুতি সরকারিভাবে অনুষ্ঠিত ইফতার পার্টি থেকে দেন নি মুখ্যমন্ত্রী। তবে ওই এলাকায় যে পলিটেকনিক কলেজ ও হাসপাতাল হবে তার নামকরণ অবশ্য আবু বাক্কারের নামেই হবে বলে জেলাশাসককেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

২০২৬ এর নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের ফুরফুরা শরিফ সফর যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তা যেমন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী দাবি করেছেন তেমনি মিম নেতা ইমরান সালগিরও বলেছেন ” গত দশ বছর তিনি ইফতারে যোগ দিতে যাননি। ২০২৬ এর নির্বাচন নিয়ে যে মুখ্যমন্ত্রী চাপে আছেন সে কথা তাঁর এদিনের সফরেই পরিস্কার ধরা পড়ছে।” তিনি বলেন, ” এরফলে ভোট মিলবে না। ভোট মিলবে সেখানে একটি রেলস্টেশনের দরকার, একটি বাস স্ট্যান্ডের দরকার। ত্বহা সিদ্দিকিই বলেছেন সেখানে কোনও কাজ হয়নি। এই সরকার মুসলমানদের ভোটের জন্য ব্যবহার করে তাঁদের উন্নয়নের জন্য নয়।”

অধীর বলেন, ” মুসলমান ভোটের দরকার বলে তাঁর এখন ফুরফুরা শরিফের কথা মনে পড়বে।” মুসলমান ভোট এক করতে আইএসএফকে মুখ্যমন্ত্রীকে ম্যানেজ করবেন বলেও অধীরের দাবি। তিনি বলেন, ” মমতার পক্ষে সব সম্ভব। যে বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিল। বাংলাদেশে আক্রান্ত মানুষদের যে অনুপ্রবেশকারী বলেছিল। সেই মুখ্যমন্ত্রী আইএসএফের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভোট করবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কী হবে আমি জানি না। হলে অবাক হব না।” একইদিনে কংগ্রেসের নেতা কর্মীদের ফুরফুরা শরিফে যাওয়া প্রসঙ্গে অধীর অবশ্য রাজনীতি দেখছেন না।

মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, “দুর্গাপুজো বা কালীপুজোয় গেলে তো প্রশ্ন ওঠে না, প্রশ্ন ওঠে না কাশী বিশ্বনাথ, পুস্করে গেলে কেউ প্রশ্ন করেন না। আমি গির্জাতেও যাই, দোলেও যাই, ইফতারেও যাই। বাংলার মাটি সম্প্রীতির মাটি। আমি সকলকে বলব সম্প্রীতি বজায় রাখুন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights