
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ মুর্শিদাবাদে লড়াইয়ের ময়দানে শাসকদলের ছাত্র নেতা কর্মীদের হাতে মার খেয়েও পাল্টা লড়াইয়ের ডাক দিল AIDSO-র কর্মীরা। চলতি মাসের সাত তারিখ তারা ফের মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় অভিযানের ডাক দিয়েছে। আর দিনের আলোয় দেখাই গেল না ভারতের ছাত্র ফেডারেশন বা SFI-কে। অথচ সোশ্যাল মিডিয়ায় সবথেকে বেশি সরব থাকে তারাই। অস্তগামী সূর্যের আলোয় জেলা কার্যালয় থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বের গির্জার মোড়ে পথ অবরোধ করলো ভুল বানান লেখা ব্যনারে। যা দেখে টিপ্পনি কাটল তৃণমূল। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য ভীষ্মদেব কর্মকার বলেন, ” এসএফআই আর বলবেন না, বলুন তাল পাতার ছেপাই। হুজুগে ছাত্রদল ওরা।”
তবে সাহস দেখিয়েছে AIDSO-র কর্মীরা, মানছেন তৃণমূলের কেউ কেউ| যাদবপুর কাণ্ডের জেরে আজ উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরুর দিন একাধিক ছাত্র সংগঠনের ডাকা ধর্মঘটে ঝামেলার আভাস আগেই ছিল। তথাপি পরীক্ষা শুরু হয়ে যাওয়ার পর ‘নিরীহ’ কয়েকটি ছেলেমেয়ে মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের প্রবেশ পথে দলের মর্যাদা রাখতে দলের পতাকা লাগিয়ে নিয়মমাফিক শ্লোগান দিচ্ছিল। গণ্ডগোলের আশঙ্কায় আগেভাগেই সেখানে মোতায়েন ছিল বহরমপুর থানার পুলিশ। ওই বিশ্ববিদ্যালয়েও পরীক্ষা চলছে। তাও দলের সিদ্ধান্তে All India Democratic Students’ Organisation বা AIDSO-র কর্মীরা পথে নামে। কিন্তু শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ভিড় করে আসা সেই নিরীহ ছেলেমেয়েগুলোকে প্রথমে পুলিশ তাদের কর্মসূচি পালনে বাধা দেয় বলে অবশ্য তাদের দাবি।
অভিযোগ, ” পুলিশ জোর করে তাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে প্রতিহত করেছে। শাসককে খুশি রাখতে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে।” তাদের আরও অভিযোগ, ” সেই জোরকে ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের গুণ্ডাবাহিনী বাড়িয়ে দিয়েছে দ্বিগুণ।” ওই ছাত্র সংগঠনের জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য অরূপ মণ্ডল বলেন, “ওরা পুলিশকে সাক্ষী রেখে আমাদের দলের সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সুব্রত মণ্ডলকে বেধড়ক ঠেঙালো। পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে দেখল আর ওদের সুরে সুর মেলালো। এটা আমাদের গণতন্ত্রের লজ্জা।” সুব্রত মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের পড়ুয়া। সে বলে, ” আমাকেই শুধু ব্যপক মারধর করা হয়নি, মহিলা কর্মীদেরও মারধর করেছে। আমাদের ব্যানার পোস্টার ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে।” উঠে দাঁড়িয়ে ফের দলের পতাকা কাঁধে তুলে শাসকদলের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতেও পিছপা হয়নি সুব্রত।তৃণমূল ছাত্র সংগঠনের রাজ্য সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য ভীষ্মদেব কর্মকার নিজে দাঁড়িয়ে থেকে AIDSO-র নেতা কর্মীদের বেদম প্রহারে নেতৃত্ব দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
যদিও ভীষ্মদেবের সাফাই ” পরীক্ষা বানচাল করতে এসেছিল AIDSO-র ছেলেরা। ভাল করে নজর করলে দেখবেন ওরা পরীক্ষার্থীদের আটকে রেখে ধর্মঘট করছিল। কেন? অভিভাবকরাই প্রতিবাদ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া আর অভিভাবকরা ওদের হটিয়ে দিয়েছে। মারধর করা হয়নি।”
ভারতের ছাত্র ফেডারেশন অব ইন্ডিয়াও ঘোষণা করেছিল,যাদবপুর কান্ডের প্রতিবাদে আজ সোমবার তারা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিচ্ছে। কিন্তু বহরমপুরে কোথায় কী? অনেকদিক ধরেই মুর্শিদাবাদে দলের মধ্যে অভিযোগ উঠছিল নিষ্ক্রিয় এই ছাত্র সংগঠন নিয়ে। এদিন তাদের “পলাতক” তকমা দিয়েছে তৃণমূল। কর্মসূচি পালন করতে পারেনি সংগঠনের সদস্য না থাকায়, সূত্রের দাবি।
পরিবর্তনের জমানায় মূল দলের বাইরে তৃণমূল ছাড়া অন্য যে কোনও দলের ছাত্র সংগঠন ক্রমবিলুপ্তির পথে। তাও AIDSO-র ছেলেরা পতাকা তুলে ধরতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজায় পৌঁছেছিল। এসএফআই তার জেলা কার্যালয় থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বের মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই দরজা ছুঁতেই পারল না সারাদিনে। যা নিয়ে দলের অন্দরেই সমালোচিত হয়েছে এসএফআইয়ের মুর্শিদাবাদ জেলা নেতৃত্ব। দলের জেলা সম্পাদক প্রীতম সাহা আবার সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্যও। তাঁর সাফাই, ” আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় অভিযানের পরিকল্পনা ছিল না। রাস্তা অবরোধ করাই ছিল আমাদের পরিকল্পনা।” যা শুনে ” দিশাহীন আমাদের ছাত্র”রা বলেই ফেললেন প্রবীণ এক সিপিএম নেতা।