বিদ্যুৎ মৈত্র, মুর্শিদাবাদঃ প্রচন্ড দাবদাহে ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। উপায়? গাছগুলোকে উপড়ে ফেল। পুড়িয়ে ফেল। আবার চাষ শুরু কর। ফসলের অপেক্ষা কর। আবার যদি খরা হয়? একইভাবে আবার চাষ কর। আর কতদিন এইভাবে চলবে। যতদিন না নিজের গোলায় ফসল তুলতে পারছ ততদিন। বামপন্থীদের কোনও শর্টকাট নেই। ডিওয়াইএফ-এর মুখপত্র যুবশক্তির ৫৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে বিরাটিতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ওই সভাতেই এই কথাগুলো বলেছিলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিম।
প্রায় মাস দুয়েক আগে মিটে যাওয়া লোকসভা নির্বাচনে বামেদের ভাঁড়ার এবারও শূন্য। এবার অবশ্য কুরুক্ষেত্র জুড়ে ছিলেন সিপিএমের যুবরা। ফল বেরলে দেখা গেল ভিড়ে নয়, ভাঁটা পড়েছে ভোটে। মুখে কার্যত কুলুপ এঁটে ঘরে বাইরে সহ্য করতে হয় টিপ্পনী। বারবার খালি হাতে ফিরতে ফিরতে মুর্শিদাবাদের গ্রাম গঞ্জে খেটে খাওয়া একাংশ কমরেডের শূন্য হয়েছে আবেগ। ক্লান্ত শরীরটাকে টেনে তুলে ফের লড়াইয়ের মাঠে নিয়ে যেতে আরও ক্লান্তি আসে সাঁঝবেলাতেই। অবসাদ গ্রাস করে। সময় লাগে রিস্টার্ট করতে। এটাই এখন বাম কর্মী-সমর্থকদের অভ্যেস হয়ে গিয়েছে।
একুশের বিধানসভা ভোটের পরে গুছিয়ে লোকসভা নির্বাচনে নেমে হেরে গেলেও এবার অবশ্য রিস্টার্ট করতে সময় লাগেনি বাম যুব নেতা-নেত্রীদের। বৃহস্পতিবার বহরমপুর রবীন্দ্রসদনে ডিওয়াইএফ-এর কর্মীসভার ভিড় অন্তত সেই দাবির পক্ষেই সওয়াল করেছে।

সূত্রের দাবি, সেই ভিড়কে মান্যতা দিয়ে যুব সংগঠনের জেলা সম্পাদক সন্দীপন দাস সহ অন্যরা, দলের প্রবীণ সিপিএম নেতা, প্রাক্তন ডিওয়াইএফ নেতাদের সামনে পজিটিভ বক্তব্য রেখেছেন। আরও এক সূত্রের দাবি, তা দেখে রাজ্য সম্পাদক মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, রাজ্য সভাপতি ধ্রুবজ্যোতি সাহা, সিপিএম নেতা তথা ডিওয়াইএফের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক আভাস রায়চৌধুরীরা কর্মীদের বুঝিয়েছেন, লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে গেলে চলবে না। মন খারাপ হতে পারে হেরে গিয়ে, তাই বলে ভেঙে পড়লে চলবে না। দলের ছেলে না হয়ে পাড়ার ছেলে হয়ে উঠতে হবে।

তৃণমূল ও বিজেপি’র আঁতাত ভাঙতে হবে বলেও ফের কর্মীসভায় জোর দেওয়া হয়েছে। আর সেই কথাতেই এসেছে বাজেট প্রসঙ্গের কথাও। ঘরে বাইরে মীনাক্ষী বলেছেন, “বাজেটে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কথা নেই। সারের ভর্তুকি কমিয়ে দিয়েছে। কর্মসংস্থানের দিশা নেই। বেসরকারি সংস্থায় চাকরির হদিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় বাজেট। সাধারণ মানুষকে এগুলো বোঝাতে হবে।” মুর্শিদাবাদের মতো ভাঙনের জেলায় ভাঙন রোধের কোনও কথা নেই বাজেটে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যের নিরিখে যুবশক্তি পত্রিকার গ্রাহক সংখ্যার বিচারে তৃতীয় স্থান পেয়েছে মুর্শিদাবাদ। তার আগে আছে কলকাতা আর পূর্ব বর্ধমান। জুলাইয়ের নিরিখে রাজ্যস্তরে তৃতীয় পুরস্কার পেলেও গ্রাহকের নিরিখে এখন অনেক জেলাকেই পিছিয়ে দিয়েছে মুর্শিদাবাদের যুবরা।
তবে এসবই বাইরের আভরণ। ভেতরে ভেতরে লড়াইয়ে মাঠে নেতা বদলের দাবি উঠেছে। দাবি উঠেছে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে একলা চলার। এমনকি মুর্শিদাবাদের তিনটি লোকসভায় যেখানে যেখানে শরিকদলের এখনও ভিটেমাটিটুকু আছে সেখানকার ভোট কেন তৃণমূল কিংবা বিজেপিতে গেল সেই জবাব চাওয়ার জন্যও গুমরোচ্ছেন যুব কমরেডরা। সন্দেহ তৈরি হয়েছে দলের কর্মীর পাড়ার সব সমর্থকদের ভোট ইভিএমে পড়েছে কিনা তাই নিয়ে? সময়ে ও যথাস্থানে সে প্রশ্ন উঠবে বলে শীর্ষ নেতারাও জানিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। সেসব ছেড়ে আরও কী করে সংগঠিত হওয়া যায় সেদিকে আপাতত ফোকাসড হওয়ার কথাও সেদিনের কর্মীসভায় উঠে এসেছে বলেই দাবি সূত্রের। সামনে জেলা সম্মেলন সেখানে সংগঠনে প্রয়োজনীয় রদবদল করে ফের রিস্টার্ট করে ২০২৬-এর দিকে এগোতে চাইছে তারা।