দলে হুমায়ুনের ‘স্পাই’! ভুলভুলাইয়া তৃণমূলের অন্দরে

Social Share
সাংগঠনিক বৈঠকে নেতারা

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ হুমায়ুন কবীর কি ছেড়েও ছাড়ছেন না তৃণমূলকে। না কি তৃণমূলের নেতারা ছাড়তে চাইছেন না তাঁদের এককালের সহযোদ্ধাকে ? সত্যি কোনটা ? চলতি হাওয়ায় দম দিয়ে যে যার মতো উড়িয়ে দিচ্ছেন কথা। সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরে তৈরি হয়েছে ভুলভুলাইয়া। তাতে তাল ঠুকছে নির্বাচন।

হুমায়ুন পরবর্তী অধ্যায়ে বুধবার বিকেলে প্রথমবার বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা কার্যালয়ে বৈঠকে বসেছিলেন নেতারা। সভাপতি অপূর্ব সরকার ও চেয়ারম্যান নিয়ামত শেখের সঙ্গে ওই বৈঠকে হাজির ছিলেন বিধায়ক সাহিনা মমতাজ, রিয়াদ হোসেন, আব্দুর রজ্জাক, হাসানুজ্জামানরা। ছিলেন বহরমপুর বিধানসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়, জেলা পরিষদের কো-মেন্টর শাওনি সিংহরায়রাও। সেই বৈঠকে সাংগঠনিক আলোচনা যেমন হয়েছে, তেমনি ভোটমুখী বাংলায় কীভাবে সরকারের উন্নয়নের পাঁচালি বুথ স্তরে পৌঁছে দেওয়া যায় তাই নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান দলের সভাপতি অপূর্ব সরকার।

তবে ওই বৈঠকেই কথা ওঠে হুমায়ুনকে নিয়ে, দাবি সূত্রের। দল গঠনের পর হুমায়ুন তৃণমূলের জেলা নেতাদের একাংশকে নিশানা করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে চলেছেন। একাধিক দাবি মনগড়া বলে বৈঠকে নেতারা নিজেরা নিজেদের পিঠ চাপড়ে দিলেও একটা বিষয়ে সবাই একসুর। দলের সঙ্গে গদ্দারি করে বৈঠকের গোপন কথা হুমায়ুনের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন নেতাদের কেউ কেউ। তাঁদের মধ্যে স্বঘোষিত নেতাও আছেন।

তথ্যের সত্যতা মেনে তৃণমূলের এক নেতা বলেন, ” নিজের গুণকীর্তন হুমায়ুনের মুখ দিয়ে যেন না বেরিয়ে আসে ক্রোধে, তা বন্ধ করতে অন্যদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দলের সঙ্গে গদ্দারি করছেন দলেরই কেউ কেউ ।” তাঁদের দাবি, ” এরাই নিয়ামতের কাছে অপূর্বর নামে আবার অপূর্বর কাছে নিয়ামতের নিন্দা করে নিজের টিকিট পাকা করার চেষ্টা করছেন। তাঁরাই দলের কথা সংবাদমাধ্যমের সামনে বলতে গিয়ে হোঁচট খান।” সেই “গদ্দার” দের চিহ্নিত করা গিয়েছে বলে এদিন বৈঠক থেকে বেড়িয়ে আর এক তৃণমূল নেতা দাবি করেন। কে তিনি ? নিজের নাম ও অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেই তৃণমূল নেতা বলেন, ” হাটের মাঝে কথা পড়লে যে প্রতিক্রিয়া দেয় সেই জানবেন দোষি। এবার তার মুখোশটা খুলে দেওয়া হবে।”

নির্বাচনের মুখে বিরোধী শিবিরের সাঁড়াশি আক্রমণ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে তৃণমূল। জনমত পক্ষে টেনে ভোট বাক্স পর্যন্ত পৌঁছানোর রাস্তা তৈরি হতে শুরু হয়েছে দলে। সেই সময় টিম হিসেবে কাজ না করে দলকে কাজে লাগিয়ে নিজের ব্যবসা বাড়াতে সেই সব নেতাদের জুড়ি মেলা ভার, এমন দাবি উঠছে তৃণমূলে। তাদের পাশ থেকে তৃণমূলের ছাপ সরে গেলেই সেই নেতার অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলেও দাবি করেন এক জেলা নেতা। অপূর্ব অবশ্য বলেন, ” এর কোনও সত্যতা নেই”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights