জলাশয়ের পারে অবৈধ নির্মাণ ভাঙল প্রশাসন

Social Share
ধোপঘাটির পাশে অবৈধ নির্মাণ ভাঙল প্রশাসন

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ জলাশয় বুজিয়ে বেআইনি নির্মাণ গড়ে উঠেছিল পুরসভার নাকের ডগায়। পুরসভার সাহায্য নিয়েই সেই নির্মাণ আজ বুধবার ভেঙে দিলেন মহকুমা শাসক। যা বার্তা পাঠাল বেআইনি জমি দখলকারিদেরও। প্রশাসনের প্রতি আস্থা ফিরল পরিবেশ প্রেমীদেরও।

বহরমপুর পুরসভার পেছনে শহরের বহু উত্থান পতনের সাক্ষী পাশাপাশি দুটি জলাশয়, যা ধোপঘাটি বিল নামে পরিচিত। ওই জলাশয় শহরের নিকাশি ব্যবস্থারও অঙ্গ। কিন্তু ছলেবলে কৌশলে সেই জমি প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে ইতিমধ্যে অনেকটা ভরাট করেছে দুষ্কৃতিরা। সেই ভরাটের কোথাও কোথাও পুলিশ ও সাধারণ প্রশাসনের একাংশের প্রচ্ছন্ন মদত ছিল বলেও অভিযোগ।

বহরমপুর স্টেডিয়াম লাগোয়া আদিবাসি হস্টেলের সামনে ধোপঘাটির পারে বিনা অনুমতিতে গড়ে উঠেছে দুটি নির্মাণ। এমনকি বেশ খানিকটা এলাকা ভরাটও করে ফেলেছিল জমি দখলকারিরা। সেখানে ফ্লেক্স তৈরির ব্যবসা ফেঁদে বসেছিলেন অভিজিৎ দাস নামে বহরমপুরের এক ব্যক্তি। আর এই অবৈধ নির্মাণের প্রতিবাদ জানিয়ে সরব হয় জলাভূমি রক্ষা কমিটি। পুরসভা থেকে মহকুমা শাসক হয়ে ভূমি দফতর থেকে জেলাশাসককে পর্যন্ত লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে। তদন্তে নেমে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার তার একটি আজ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর একটি বিচারাধীন।

শুধু এই নির্মাণই নয়। শহরের যে কোনও এলাকায় দিনের আলোয় প্রথমে বাঁশের বেড়া দিয়ে জমি দখল করা শুরু হয়। তারপর অন্ধকারে মাটি ফেলে তা ভরাট করা হয়। এরপর লম্বা সময় ধরে গড়ে ওঠে পরিকল্পনামতো নির্মাণ। পরে তা অধিকারে পরিণত হয়। অদৃশ্য মুখের পরোক্ষ হুমকিতে মুখে কুলুপ এঁটে থাকেন মানুষজনও। নজরে আনলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। আর তা ভাঙতে গেলে টের পান আধিকারিকরাও।

মহকুমা শাসক শুভঙ্কর রায় এদিন বলেন, ” অবৈধ নির্মাণ আগেও ভাঙা হয়েছে। যেখানেই এইরকম নির্মাণ হবে, তা প্রশাসনের নজরে এলে তা ভেঙে দেওয়া হবে।” জলাভূমি রক্ষা কমিটির সম্পাদক শিল্পী সেন বলেন, ” ওই নির্মাণ আগেই ভাঙার কথা ছিল। আমরা তা নিয়ে নিয়মিত আন্দোলন করেছি। প্রশাসনের দরজায় দরজায় প্রতিবাদ জানিয়ে যা চিঠি দিয়েছি তাতেই ফাইল ভরে গিয়েছে। আমাদের হাল না ছাড়া আন্দোলনের ফলেই প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। আশা করবো আগামী দিনে জলাশয় ধ্বংস করে কোনও বেআইনি নির্মাণ হলে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে প্রশাসন তা আটকাবে।” অভিযুক্ত ব্যবসায়ী অবশ্য এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights