“আমি হয়রান হচ্ছি, ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে”- জাকির

Social Share
জাকিরের বাড়ি ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ ” আমি আইন মেনে ব্যবসা করি। সরকারকে জিএসটি দিই। আমার তিরিশ হাজার শ্রমিকের রুজি রোজগার আছে। আমি জেনুইন ব্যবসায়ী। আমাকে চিঠি দিয়ে আগাম জানালে সুবিধা হয়। এরফলে আমাকে হয়রান হতে হচ্ছে।” জিএসটি আধিকারিকরা চলে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনই দাবি করলেন জঙ্গিপুরের শিল্পপতি বিধায়ক জাকির হোসেন।

মঙ্গলবার বিকেল চারটে থেকে টানা রাত দুটো। জাকিরের বিরুদ্ধে পণ্য ও পরিষেবা কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে জিএসটি আধিকারিকরা জাকিরের আটটি সংস্থায় তল্লাশি চালিয়ে পণ্য ও পরিষেবা কর দফতরের আধিকারিকরা তখন বেড়িয়েছেন সদ্য। সেই সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জাকির বলেন ” আমার এখানে কোনও যন্ত্রের মাধ্যমে কাজ হয় না। মানুষই কাজ করে। সব ঠিক আছে। হয়ত এখানকার জিনিস ওখানে আছে । এই যা।”

২০২৩ সালের পর ২০২৫। মাঝখানে বছর দুয়েকের বিরতি। সেবার হানা দিয়েছিল আয়কর দফতর। এবারও সেই কেন্দ্রের তদন্তকারী সংস্থা। তবে এবার জিএসটি। মঙ্গলবার বিকেলে তার বাড়িতে ঢোকেন আধিকারিকরা। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে জাকিরের বাড়ি ঘিরে রেখে চলে তল্লাশি।

২০২৩ সালে জঙ্গিপুরের বিধায়কের বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ওই বছর জাকিরের বাড়ি থেকে নগদ ন’কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছিল বলে জানা গিয়েছিল। সেবার এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছিলেন এই বিড়ি মালিক।

বছর চারেক আগে ২০২১ সালের ১৭ ফ্রেব্রুয়ারি নিমতিতা স্টেশনে দলীয় বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার আগে জাকিরকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়েন দুষ্কৃতিরা। বোমার আঘাতে গুরুতর আহত জাকির স্বাভাবিকভাবে চলার শক্তি হারিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার চার বছর পুর্তির দিন সমাজমাধ্যমে সে কথা তুলে ধরে জাকিরের দাবি- “মূল অভিযুক্ত আজও অধরা কেন এনআইএ জবাব দাও।”

সেই ঘটনার পর থেকেই ফি বছর সংবাদ শিরোনামে উঠে আসেন জাকির। ২০২৪ সালে তাঁকে খুনের হুমকি দিয়ে এক যুবক আজ কয়েদখানায়। এদিন জিএসটি- দল তাঁর বাড়িতে তল্লাশি অভিযানে আসার আগের দিন বিধায়ক বচসায় জড়িয়ে পড়েন জঙ্গিপুর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে। ওই পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের আচমকা রাস্তা ও নালা পরিদর্শনে যান বিধায়ক। কিন্তু রাস্তার গুণগত মান খারাপ হওয়ার অভিযোগ তোলেন ভাইস চেয়ারম্যান সন্তোষ চৌধুরীর বিরুদ্ধে। আর সেখানেই না থেমে জাকির সরাসরি সন্তোষের বিরুদ্ধে কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ তোলেন। যদিও তাঁকে পাল্টা আক্রমণ করে সন্তোষ বলেন, “প্রমাণ দিতে পারলে আমি পদত্যাগ করব।”

সেই বাকবিতন্ডার ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতে জাকিরের বাড়িতে কেন্দ্রের তদন্তকারী সংস্থা হানা দেওয়ার ঘটনায় কী রাজনীতি জড়িত। জাকির বলেন- “রাজনীতি হচ্ছে না কী হচ্ছে তা বলব না। আমি বলব যদি আমার ক্ষেত্রে বারবার হয় তাহলে সবার ক্ষেত্রেই এইরকম হওয়া উচিত।” সঙ্গে যোগ করেন- ” আমার ক্ষেত্রে আয়কর হানা, জিএসটি সমস্ত কিছুর হানায় মানুষের মধ্যে ধারণা হয়েছে আমাদের রুজি রোজগার চলে যাবে। আমার এখানে যারা কর্মচারি আছে তারা আতঙ্কে আছে। সেই শঙ্কা কাটাতে হবে। আমি মানুষের জনপ্রতিনিধি। আমাকে জনগণের কাজ দেখতে হয়। সব সময় সবটা দেখতে পারিনা। কিন্তু চাইব এতগুলো মানুষের রোজগার যে হচ্ছে তাদের কথা চিন্তা করে আশা করব আধিকারিকরা সঠিক রিপোর্ট জমা দেবেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights