উর্দির গরম ! সহকর্মীকে পিটিয়ে শ্রীঘরে পুলিশ

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ খাকির উর্দি গায়ে উঠলে ধরাকে সরা জ্ঞান করা একাংশ পুলিশের বদভ্যাস। পরামাত্মীয়ও সমঝে চলে উর্দিধারীকে, এমন কথার চল আছে রসিক সমাজে। আর সেই পুলিশের কাঁধে যদি থাকে তারা, কোমড়ে জড়ানো থাকে খয়েরি রঙের বেল্ট, সে তখন বেমালুম ভুলে যায় সে আইনের রক্ষক মাত্র। আর পাঁচটা সরকারি কর্মীর মতোই তার কাজের সীমানা। অথচ একটা বড় অংশের পুলিশের ভক্ষকের তকমা জুটে যায় অনায়াসে এই মুদ্রাদোষে।

২০১৯ ব্যাচের সাব-ইন্সপেক্টর শেখ আসরাফুলও তাই। বীরভূম জেলার কর্তব্যরত এক পুলিশ অফিসার আসরাফুল। বাড়ি তার মুর্শিদাবাদের লালগোলায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিন কয়েকের ছুটিতে নিজের বাড়িতে আসেন আসরাফুল। একাংশের দাবি, বিয়ে করতেই ছুটিতে এসেছিল সে। তার মা মঙ্গলবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে মাকে কৃষ্ণপুর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। সেই সময় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে বচসা থেকে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন আসরাফুল। সঙ্গে ছিলেন তাঁর সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী, বাবা, ভাইরা। 

অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় হাসপাতাল কর্মীদের যেমন মারধর করেন তেমনি দুই পুলিশ আধিকারিক সহ সিভিক ভলান্টিয়ারের গায়েও হাত তোলেন আসরাফুল। তারমধ্যে ছিলেন লালগোলা থানার ওসি অতনু হালদার, সাব-ইন্সপেক্টর কল্যাণ সিংহ রায়ও। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওসি অতনু হালদারের গলা টিপে ধরেন ও কল্যাণ সিংহের আঙুল ভেঙে দেন অভিযুক্ত পুলিশ কর্মী। এই ঘটনার কথা বীরভূমের পুলিশ সুপারকে জানানো হলে আসরাফুলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানান বীরভূমের পুলিশ সুপার আমনদীপ।

বীরভূম পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কীর্ণাহার থানার ওসি পদে থাকাকালীয় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছিল আসরাফুলের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় গত বছর নভেম্বরে। যদিও তাও শুধরোয়নি ওই পুলিশ কর্মী। এদিন আসরাফুল সহ কর্তব্যরত অবস্থায় সরকারি কর্মীকে মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকায় লালগোলা থানার পুলিশ সাত জনকে গ্রেফতার করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights