সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ লোকসভা নির্বাচনের হাওয়াতে বঙ্গের বিরোধী রাজনীতিকরা হাতে গরম ইস্যু পেয়েছেন কলকাতার গার্ডেনরিচ কান্ড। এখনও পর্যন্ত শেষ হয়নি উদ্ধার কাজ। ন’জনের মৃত্যুর পরেও আশঙ্কা, বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যা। তবে রমজান মাসে এতগুলো প্রাণের মৃত্যুতে প্রায় বাকরুদ্ধ সকলেই।
ঠিক একবছর আগে দলের অন্য বিষয়ে মুখ খুলবেন না বলে সংবাদ মাধ্যমে আওড়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের ‘প্রশ্ন’ কবিতার দু’লাইন। একবছর পরে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ ওরফে ববি হাকিমের কণ্ঠ আজ রুদ্ধ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলছেন কোথা থেকে শুরু করবেন এই ভেবে। তবু বললেন, “বেআইনি নির্মাণ আজ ব্যধিতে পরিণত হয়েছে।” তৃণমূলের জমানায় চুরি, দুর্নীতি যে আইনে পরিণত হয়েছে তা এতদিন শোনা যেত বিরোধীদের মুখে। রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবেই। আজ ববি বিরোধীদের দাবিতে সিলমোহর দিলেন। বললেন, “এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।”
মঙ্গলবার মুজফ্ফর আহমদ ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য দাবি করেছেন ‘‘গার্ডেনরিচে বহুতল ভাঙার জন্য দায়ী রাজ্যের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন।’’ সঙ্গে জুড়ে দিলেন তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পৌরসভায় দুর্নীতি বেড়েছে। টাকার বিনিময় একের পর এক বেআইনি প্ল্যান পাশ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় কাউন্সিলররাও এর সঙ্গে যুক্ত। এলাকার সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলর সব তৃণমূলের। এর দায় কোনওভাবেই ওরা এড়িয়ে যেতে পারে না। বলেছেন দক্ষিণ কলকাতার সিপিআই(এম) প্রার্থী সায়রা হালিম।
তিনি আরও বলেছেন, “একই পরিবারের তিনজন সদস্য মারা গিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত মোট ন’জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর দায় এই সরকারকে নিতে হবে। তাদের জবাব দিতে হবে কেন বেআইনি ভাবে ওই বাড়ি তৈরি হচ্ছিল? কে বা কারা এই অনুমতি দিয়েছিল?’’
এদের এক ধাপ ওপরে উঠে বহরমপুরের বিদায়ী সাংসদ অধীর চৌধুরী বললেন ” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নৈতিকতা বলে কিছু থাকলে তাঁকে (ফিরহাদ হাকিমকে) তাড়িয়ে দিয়ে গ্রেফতার করা উচিত ছিল।” বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ‘‘নিজের মুখেই নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করছেন মেয়র। চক্ষুলজ্জা থাকলে ভোট চাওয়ার বদলে এখুনি ইস্তফা দিন পদ থেকে।” ফিরহাদের পুরসভার ডেপুটি মেয়র সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন, ” যে চেয়ারে বসে থাকে দায় তার। আমার ওয়ার্ড হলে দায় এড়াতে পারতাম না।”