
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ দেশের স্বাধীনতার দিনটিকে উৎসবের সঙ্গে পালন করতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। আর তাই মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম জাগানোর চেষ্টায় স্বাধীনতার ৭৫ বছর বয়সে ভারতের প্রতি ঘরে পতাকা টাঙানোর ফরমান জারি করেছিল নরেন্দ্র মোদি অ্যান্ড কোং। কিন্তু সম্মানের বদলে জাতীয় পতাকার কপালে জুটল পদে পদে অসম্মান। কোথাও ধুলোয় লুটিয়ে পড়ছে তেরঙ্গা, কোথাও বৃষ্টিতে ভিজে নুইয়ে পড়েছে। স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের উচ্ছ্বাসে কোনো ট্রাকের গায়ে লাগানো জাতীয় পতাকার অর্ধেক ছিঁড়ে উধাও, বাকিটা উড়ছে হাওয়ায়। কিন্তু সেদিকে নজর দেওয়ার কেউ নেই। এই অমর্যাদা ঠেকাতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে নোটিশ পাঠিয়ে নালিশ জানালেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবি অরিন্দম দাস।
দিনে কোথাও জাতীয় পতাকা উত্তোলন হলে সূর্যাস্তের আগে তা নামিয়ে ফেলাই নিয়ম । কিন্তু স্বাধীনতা দিবসের দিন ঘটা করে ক্লাবের মাথায়, পড়ার রাস্তা জুড়ে হই হই করে জাতীয় পতাকা টাঙিয়ে, জিলিপি, লজেন্স খেয়ে স্বাধীনতা দিবস যে যার মতো পালন করলেও, নির্দিষ্ট সময়ের পরে সেই পতাকা খুলে যে স্বসম্মানে রাখতে হয়, নাগরিক সমাজের একটা বড় অংশই সে ব্যাপারে অন্ধকারে। এমনকি তা নিয়ে পাঠ দেওয়ারও কেউ নেই। ২০২২ সাল থেকে প্রতি ঘরে পতাকা টাঙাতে গিয়ে জাতীয় পতাকার অসম্মান বেড়েছে বই কমেনি গত তিন বছরে।
এমনটাই পর্যবেক্ষণ ওই আইনজীবির। তিনি বলেন, ” গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন কাজে দেশ ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরতে ঘুরতে দেখেছি, কিভাবে জাতীয় পতাকার অসম্মান করা হচ্ছে। কেউ হয়তো সজ্ঞানে এটা করছেন না। কিন্তু বাস্তবে জাতীয় পতাকার অপমান হচ্ছে। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞপ্তিটা নতুন করে প্রচার করে নাগরিক সচেতনতার জন্য সব সরকার এবং সংবাদ মাধ্যমকে নোটিশ পাঠিয়েছি একজন সচেতন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে।” সেই সঙ্গে তিনি এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন ” জাতীয় পতাকার কেউ অসন্মান করলে আর তা প্রমাণ হলে তিন বছর পর্যন্ত জেল সাজা হতে পারে।”