বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ বছর দুয়েক আগে বহরমপুর পুরসভা তৃণমূলের দখলে গিয়েছে। পুরপ্রধান হয়েছেন নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। সেই পুরসভার ২৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৬টি ওয়ার্ডে তৃণমূলেরই কাউন্সিলর। লোকসভা ভোটের প্রচারে ওয়ার্ডগুলিতে বেশ বড় বড় পথ সভা হয়ে গিয়েছে । কখনও হাত ধরে কখনও মঞ্চে মাইক্রোফোন হাতে ওয়ার্ডবাসীর সঙ্গে দলীয় প্রার্থীর পরিচয় করিয়েছেন নাড়ুগোপাল। আর মানুষজনকে বলছেন “মুখ্যমন্ত্রী আপনাদের সুখ-দুঃখের সাথী। জন্ম থেকে মৃত্যু সবেতেই সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে। আপনারা তৃণমূলকে ভোট দিন।”
আরও পড়ুনঃঅভিষেকের রোড শো’য়ে শামিল ছাত্র-যুব
সোমবার বহরমপুর লোকসভায় নির্বাচন। সেই নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে লড়াই করছেন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। আজ বহরমপুর, তো কাল সালার। এখনি কান্দি শহর তো পরক্ষণেই ছুটেছেন বহরমপুরের কাশিমবাজার। নেতারাও ছুটেছেন। প্রার্থীও ছুটেছেন। তবে প্রার্থীকে অক্লান্ত হতে দিচ্ছেন না তৃণমূলের কর্মীরা। বিলাসবহুল হোটেলে রুটিন মেপে চলছে তাঁর আসা-যাওয়া।

মাস খানেক ইউসুফের সভায় থেকে কখনও দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেল “অতিথি”কে খাতির করতে বদ্ধপরিকর একদিকে হুমায়ুন কবীর, অন্যদিকে বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান। দিক বিদিক ছুটে বেড়াচ্ছেন দু’জনে। দলে তাঁদের ‘শুভাকাঙ্খী’রা বলছেন ” দিদি স্টেডিয়ামে একান্তে কথা বলে ওদের জোশ বাড়িয়ে গিয়েছেন।” ওরা যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই প্রার্থীর( না কি ক্রিকেটার!) সঙ্গে সেলফি তোলার হিরিক? আর তাই প্রচারে চলছে “এবারের সব ভোট এক বোতামেই।” তাই?
শুনুনঃ বহরমপুর বিজেপি ও সিপিএমের বাকযুদ্ধ
সতর্ক পুরপ্রধান বললেন, “সব ভোট পাব এমন কথা বলতে পারব না। তবে জেতার ভোট আমরা পাব।” কেন? নাড়ুগোপাল বললেন, ” আমরা না জিতলেও বহরমপুর বিধানসভায় আমরা উন্নয়নের কাজ করেছি। তারসঙ্গে এবার যোগ হয়েছে বাড়তি সুবিধা। ইউসুফের মতো বিতর্কহীন একজন মানুষ যিনি ভারত বিখ্যাত খেলোয়ার। তিনি আমাদের দলের প্রার্থী। তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে। তিনি সোজা ব্যাটে খেলে ম্যাচ জিতে আসবেন।”
নাড়ুগোপাল বিধানসভা নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় হয়েছিলেন বছর তিনেক আগে। সেবারের যুদ্ধের সঙ্গে এবারের যুদ্ধের ফারাক কোথায়? পুরপ্রধান বলছেন ” তখন আমাদের হাতে পুরসভা ছিল না। পঞ্চায়েত ছিল না। উল্টে মেরুকরণের রাজনীতি ছিল। এবার মোদির গিমিক নেই। দিদির উন্নয়ন আছে। পঞ্চায়েত থেকে পুরসভা সব আমাদের দখলে। এবার তাই আমরা শক্তিশালী।” দলের নেতারা বিরোধী বিশেষ করে বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী অধীর চৌধুরীকে যেমন ভাষণের প্রতিটি শব্দে আক্রমণ করছেন সেদিক থেকে ব্যতিক্রমী ইউসুফ। যতখানি মার্জিত ততখানি হাসিখুশি। ভাষার সমস্যা মিটে গেলে একেবারে ‘জিগরি দোস্ত।’
সেই ব্যক্তি ইউসুফ অফিস আদালত থেকে হাটে বাজারে যেখানেই ভোট প্রচারে যাচ্ছেন সেখানেই এক কথা বলায় দলের একাংশ লোকজন ভোটের শেষলগ্নে তাঁকে ‘তোতা’ পাখি বলতে শুরু করেছেন। তাঁদের কথা “শেখানো বুলি আউড়াচ্ছেন ইউসুফ।” তাতে কী মানুষের সঙ্গে মনের টান থাকছে? নাড়ুগোপাল বলছেন, “ওঁরা পেশাদার মানুষ। যা বলছেন তা বুঝে বলছেন। নিজস্ব যোগ্যতা আছে। দেশবিদেশে মিডিয়া সামলেছেন। জানেন কীভাবে কোথায় কথা বলতে হয়। যাঁরা তোতা বলছেন তাঁরা ভুল বলছেন।” সঙ্গে জুড়ে দিলেন “এসবে ব্যলটের অঙ্ক বদল হয় না?” বদল হয় কিসে? হাসলেন নাড়ুগোপাল।