নরক যন্ত্রণায় দিন কাটালেন পুরবাসী

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ সকাল হোক কিংবা বিকেল নাকে রুমাল দিয়ে ছাড়া হাঁটা যেত না স্বর্ণময়ীর বারো বিঘা কবরখানার সামনের রাস্তা দিয়ে। দিন কয়েকের বৃষ্টিতে ওই এলাকা কার্যত নরকের রূপ নিয়েছিল বলে দাবি মানুষজনের। তার থেকে আপাতত রেহাই মিলল পুরবাসীর। যদিও সেই পথ সহজ ছিল না। দীর্ঘদিনের দাবি, পাল্টা দাবি, বিক্ষোভ শেষে পুরবাসীর দাবি মানতে একপ্রকার বাধ্য হল পুরসভা। পুরপ্রধান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় বলেন, “মানুষজনের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে আমরা ওই এলাকা থেকে ডাস্টবিন সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
স্বর্ণময়ী রোড ধরে যে রাস্তা বারো বিঘা কবরখানাকে পাশে রেখে সোজা চলে গিয়েছে উকিলাবাদ রোডের দিকে, সেখানেই এলাকাবাসীর ময়লা, আবর্জনা ফেলার জন্য ডাস্টবিন তৈরি করেছিল কংগ্রেস পুরসভা। ২২,২৩ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের যাবতীয় ময়লা আবর্জনা ফেলা হত সেখানে। বছর খানেক ধরে ওই ডাস্টবিনে ময়লা আবর্জনা ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভাকুড়ি ১ নম্বর পঞ্চায়েতও। ফলে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত ময়লা আবর্জনা সেখানে জমা হত। রাস্তায় নেমে আসত বর্জ্য মেশানো জল। আর তার দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ত ডাস্টবিনের উল্টোদিকের পাড়ায় বাড়িতে, বাড়িতে। বহুতলের কার্নিশেও।
এই যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে বারবার পুর-প্রতিনিধির দ্বারস্থ হয়েছেন ২২ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষজন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। যদিও পুরসভা সূত্রে জানা যায়, পঞ্চায়েতকে বারবার বলা সত্ত্বেও কিছুতেই তারা বিষয়টি নিয়ে কর্ণপাত করেনি। গা করেনি পুরসভাও। অথচ ভাকুড়ি ১ নম্বর পঞ্চায়েত ও বহরমপুর পুরসভা তৃণমূল পরিচালিত।

ওই ডাস্টবিনের উল্টোদিক দিয়ে আম্রুত প্রকল্পে নিকাশিনালা তৈরির জন্য একপাশের রাস্তা কেটেছে সেই পুরসভাই। তার মাটি, নর্দমার ময়লা আর বৃষ্টির জল মিলেমিশে গোদের ওপর বিষফোঁড়ার ভূমিকা নিয়েছিল স্বর্ণময়ী রোড। অবশেষে ধৈর্য্যচ্যূতি ঘটে চুড়ামন চৌধুরী লেনের নাগরিকের। বুধবার এলাকাবাসীর ক্ষোভের মুখে পড়েন ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবাশিস গোয়ালা (সনু)। ছবি সহ সে কথা জানান হয় পুরপ্রধানকে। তিনি কাউন্সিলর ও পঞ্চায়েতের উপ-প্রধানের সঙ্গে কথা বলে ডাস্টবিন উঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান দেবাশিস। তিনি বলেন ” পুরসভা আমাদের, পঞ্চায়েত আমাদের, মানুষের স্বার্থে আমরা। সাময়িক অসুবিধা হয়েছিল, সবার সহযোগিতায় আমরা এখান থেকে ডাস্টবিন সরিয়েই দিয়েছি, আর অসুবিধা হবে না।”
ময়লা, আবর্জনা কোথায় জমা করা হবে তার কোনও ব্যবস্থা না করেই মানুষজনকে সুবিধা দিতেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ময়লা, আবর্জনা সংগ্রহ করার কাজ শুরু করেছিল পঞ্চায়েত। এলাকায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড না থাকায় তৃণমূলের বহরমপুর বিধানসভার চেয়ারম্যান তথা পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপালের মধ্যস্থতায় ২২ নম্বর ওয়ার্ডের এই ডাস্টবিনকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল বলে জানান পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান বিপ্লব কুন্ডু। তিনি বলেন, ” আপাতত চুয়াপুরে একটা ডাম্পিংগ্রাউন্ড তৈরি হচ্ছে। দিন তিনেকের মধ্যে সেটা চালু হয়ে গেলে আর পুরসভার ডাস্টবিনে পঞ্চায়েতে আবর্জনা ফেলা হবে না।” মানুষজন বললেন,” জনবসতি এলাকায় ডাস্টবিন শুধু দুর্গন্ধ ছড়ায় না, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশও তৈরি করে। এটা জনপ্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের থেকে আগে বুঝলে আমাদের কষ্ট কমে।” তবে নতুন পাওয়া ফাঁকা জায়গায় পুরসভা নতুন কী পরিকল্পনা গ্রহণ করে মানুষের স্বার্থে সেদিকেই তাকিয়ে ২২ নম্বর ওয়ার্ড।