সাংবাদিক নিগ্রহে মূল অভিযুক্ত সহ তিনজনকে আটক করল পুলিশ

Social Share
বামদিকে মতিউর রহমান, ডানদিকে আহত দুই সাংবাদিক

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ বেলডাঙায় জাতীয় সড়ক অবরোধের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক সোমা মাইতি ও চিত্র সাংবাদিক রঞ্জিত মাহাতোকে মারধর করে একদল দুষ্কৃতি। ঘটনার প্রায় ৩৩ ঘন্টা গড়িয়ে যাওয়ার পর মূল অভিযুক্ত মতিউর রহমান সহ চারজনকে আটক করেছে মুর্শিদাবাদ পুলিশ। আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ না হলেও পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

ঝাড়খন্ডে বেলডাঙার বাসিন্দা এক পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার উত্তাল হয়েছিল বেলডাঙার মহেশতলা। জাতীয় সড়ক অবরোধ থেকে রেল অবরোধ, ভাঙচুর, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভের জেরে একসময় তা নৈরাজ্যের চেহারা নেয়। মুর্শিদাবাদ পুলিশ পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাতে না বেরিয়ে যায় তাই ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ।

সেই নৈরাজ্যের খবর সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এক ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি সোমা ও তাঁর চিত্র সাংবাদিক রঞ্জিত। দাবি, লাইভ টেলিকাস্ট হওয়ার সময় সংবাদ প্রচারে আপত্তি জানিয়ে একদল দুষ্কৃতি সোমা ও রঞ্জিতের উপর চড়াও হয়। তাঁদের মাটিতে ফেলে মারধর করা হয়। চুলের মুঠি ধরে সারাগায়ে আঘাত করে অসম্মান করা হয় সোমাকে। মারের চোটে পাঁজরে গুরুতর চোট পান রঞ্জিত। তাঁর মাথায় আঘাত লাগে। উন্মত্ত জনতার হাত থেকে সোমাকে বাঁচায় আবুজার শেখ। কোনওক্রমে ওই মহিলা সাংবাদিককে টোটোয় চাপিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন তিনি।

মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর একটি বেসরকারি হাসপাতালে আপাতত দুই সাংবাদিক চিকিৎসাধীন। ট্রমায় আচ্ছন্ন দু’জনেই। হাসপাতালে তাঁদের দেখতে ছুটে যান মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সন্দীপ সান্যাল। পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বিজেপি সভাপতি মলয় মহাজনরা। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জেলাশাসককে পুরো ঘটনার বর্ণনা করেন সোমা। আশ্বাস দেন জেলাশাসক। দুষ্কৃতিদের গ্রেফতারের দাবি তোলেন শাসক বিরোধী সব পক্ষ।

শুক্রবারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার ফের একবার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয় বেলডাঙার বড়ুয়া বাজার মোড়ে। ভাঙচুর চলে স্টেশনে। ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয় সরকারি বাস। বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো মনে হয় বেলডাঙাকে। সক্রিয় হয় মুর্শিদাবাদ পুলিশ। মালদহের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বহরমপুরের রোড শো থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার ঘটনার নিন্দা করে দোষীদের শাস্তির জন্য সওয়াল করেন। সমাজ মাধ্যমের ভিডিও দেখে দোষীদের চিহ্নিত করা হয়। অশান্তির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিরিশজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সুপার বলেন, ” শনিবারের ঘটনাতেও নেতৃত্ব দিয়েছিল মতিউর। মহিলা সাংবাদিককে নিগ্রহের ঘটনায় সে যে যুক্ত ছিল তা ভিডিও দেখে তাঁকে চিহ্নিত করা হয়েছে।” দেরিতে হলেও পুলিশ দোষীদের আটক করায় খুশি আহত সাংবাদিকদের পরিবার। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সোচ্চার সাংবাদিক মহল।

One thought on “সাংবাদিক নিগ্রহে মূল অভিযুক্ত সহ তিনজনকে আটক করল পুলিশ

  1. এতো নৈরাজ্য….. প্রতিবাদের চেহারা যদি সম্পত্তি নষ্ট, নিগ্রহ এসব হয় তাহলে যারা এসব করছে তাদেরকেই চিহ্নিত করে সীমানার ওপারে পাঠিয়ে দেওয়া উচিৎ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights