মর্গ থেকে শ্মশানে ছেলের দেহ নিয়ে যাওয়ার খরচ জোগাতে মানুষের কাছে হাত পেতেছেন প্রধান

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে একমাত্র রোজগেরে ছেলের। কিন্তু মর্গ থেকে শ্মশানে ছেলের দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য যে খরচ হবে তা দেওয়ার মতো আর্থিক পরিস্থিতিও নেই তাঁর। সেই খরচ জোটাতে মানুষের কাছে হাত পেতেছেন খড়গ্রামের হরিপুর গ্রামের মহিষার পঞ্চায়েতের প্রধান সাগরিকা পাল। সাহায্য জুটেও যায়। কিন্তু শাসকদল তৃণমূলের একজন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের এমন দূরাবস্থার কথা প্রাথমিকভাবে মর্গে হাজির মানুষজনের বিশ্বাস হয়নি। ঘোর কাটতে দু-চার জন এগিয়ে আসেন অর্থ হাতে।

জানা যায়, সাগরিকার ছেলে টপি (৩০) অন্যের ট্র্যাক্টর চালাতেন। তার থেকে যা আয় হোতো তা দিয়েই চলতো সংসার। মঙ্গলবার রাতে সে পথ দূর্ঘটনার কবলে পরে। পথচারীরা তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় কান্দি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর দেহ পাঠানো হয় মর্গে। আজ বুধবার দেহ ময়নাতদন্ত শেষে গ্রামে ফিরতে কান্দি পুরসভা থেকে ভাড়া করে স্বর্গরথ। কান্দি থেকে হরিপুর পর্যন্ত স্বর্গরথের ভাড়া বারোশো টাকা ঠিক হয়েছিল।

সেই টাকা চাঁদা তুলে মেটাতে উদ্যোগী হয় মর্গে উপস্থিত টপির বন্ধুরা। তাঁদেরই একজনের দাবি, বারোশো টাকা দেওয়ার মতো আর্থিক ক্ষমতা ওই পরিবারের নেই। ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে জিতে রাজনীতির উঠোনে পা রাখলেও সাগরিকা এখনও রাজনীতি বুঝে উঠতে পারেন নি। টিনের ছাদের মাটির দো-তলা বাড়ি। দু-বেলা ভাতের জোগার করতে গিয়ে হন্যে হতে হয় তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে। নির্বাচনে জেতার কিছুদিনের মধ্যেই মৃত্যু হয় সাগরিকার স্বামীর। এক মেয়ে ও ছেলে নিয়ে চলে যাচ্ছিল সংসার। তারপরেই ওই পরিবারে নেমে এলো শোকের ছায়া।

বন্ধুদের চাঁদা তোলার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন মর্গে উপস্থিত খড়গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সুপ্রিয় ঘোষ। তিনি শোনামাত্র স্বর্গরথের ভাড়া মুকুবের জন্য পুরসভাকে অনুরোধ করলে তা গ্রাহ্য হয়। শুধু গ্রামে ফেরাই নয় গ্রাম থেকে বহরমপুর শ্মশান ঘাট পর্যন্ত দেহ নিয়ে যাওয়ারও ব্যবস্থা করে দেন বলে দাবি। বাকি কাজকর্মের জন্য প্রধানকে আর্থিক সাহায্য করেন বিধায়ক আশিস মার্জিত। তৃণমূলের প্রধানই হোক আর পঞ্চায়েত সদস্য জনমনে তাঁর প্রাথমিক পরিচয় চার চাকা গাড়ির সঙ্গে বিলাস বহুল জীবন। আর তাই এই ঘটনা বিশ্বাস হয়নি মানুষের। দাবি এক তৃণমূল সদস্যের।

এই ঘটনাকে বাংলার রাজনীতিতে বিরলের মধ্যে বিরল বলে বিরোধীরা দাবি করলেও স্থানীয় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য শাশ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ” প্রয়াত প্রধান-পুত্রের অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত; তাঁদের এই সরল জীবনযাপনই প্রমাণ করে যে, মূল্যবোধের রাজনীতিই তৃণমূলের আসল অহংকার।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights