জেলা সাংবাদিকদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করতেন প্রদীপ্ত রাজপণ্ডিত

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ প্রদীপ্ত রাজপন্ডিত নামের এক ব্যক্তিকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার হলদিয়া থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, নীল বাতির গাড়ি ব্যবহার করা ছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তির নাম ভাঙিয়েও একাধিক জায়গায় তোলা তুলতেন প্রদীপ্ত। নিজেকে আইএএস বলেও পরিচয় দিতেন। তাঁর সঙ্গে জড়িয়েছে বহরমপুরের নামও। বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরীর আপ্ত সহায়ক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন ধৃত যুবক। এই ঘটনায় অধীর বাবুর সম্মানহানি হল বলেই মনে করছেন জেলাবাসী।’

বানিজ্যে স্নাতক অভিযুক্ত প্রদীপ্তের বাড়ি হলদিয়ার সুতাহাটা থানার চৈতন্যপুরে। মঙ্গলবার তাঁর বাড়িতে পুজোর অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। ওইদিনই রাতে প্রদীপ্তকে সুতাহাটা থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন ” লোকসভার জয়েন্ট সেক্রেটারির পরিচয় দিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।” নিশীথই শুধু নন। প্রদীপ্তর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বেরও। যেমন প্রকাশ্যে এসেছে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রদীপ্তের ছবি। তেমনি প্রকাশ্যে এসেছে অভিনাতা সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেবের ছবিও।

মুর্শিদাবাদ জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বুধবার অধীর বাবুও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ” সাংসদ থাকাকালীন সংসদ থেকেই আপ্ত সহায়ক দেওয়া হয়। এইরকম তিন থেকে চারজন আমার সঙ্গে কাজ করেছে। রাজ্যের ছেলে, দিল্লিতে পড়াশোনা করতো, পরিবারের অনুরোধে এই ছেলেটিকে আমার আপ্ত সহায়ক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। তাঁর বেতনও সাংসদ থেকে হতো। আমি নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর সে আর আমার আপ্ত সহায়ক নয়। সে সংসদের একজন কর্মী মাত্র। ” আপ্ত সহায়ক না থাকলেও তাঁর সঙ্গে ধৃতের ভাল সম্পর্কের কথাও অস্বীকার করেননি অধীর। তিনি বলেন, ” ছেলেটির পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছিল। আমিও খোঁজ খবর নিয়েছি। তবে আইন আইনের পথেই চলবে।”

মুর্শিদাবাদ জেলার প্রবীণ এই রাজনীতিককে শাসকদল তৃণমূলের একাংশ নেতাও সম্মান করেন। রাজ্য কিংবা জাতীয় স্তরের সাংবাদিকদের সঙ্গে অধীরবাবুর যে সম্পর্ক জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গেও তাঁর সেই সুসম্পর্ক। জেলার সাংবাদিকরা কর্মসূত্রে রিপোর্ট পাঠান ডেস্কে। ডেস্ক সিদ্ধান্ত নেয় সংবাদ পরিবেশনের। তা স্বত্তেও মনের মতো সংবাদ পরিবেশিত না হলে সাংসদের ওই পিএ সাংবাদিক গ্রুপেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কু-মন্তব্য করতেন প্রদীপ্ত। যা কখনোই ভাল চোখে নেননি সাংবাদিকরা। অধীরবাবু পাছে ভুল বোঝেন তাই তাঁর কাছেও কেউ প্রদীপ্তর ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ জানাননি।

অধীর চৌধুরীর সরকারি আপ্ত সহায়ক হলেও কংগ্রেস দলের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের অ্যাডমিনও ছিলেন প্রদীপ্ত। কী করে তিনি একটি রাজনৈতিক দলের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের অ্যাডমিন থাকতে পারেন সেই প্রশ্ন উঠেছে সমাজমাধ্যমেও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রদেশ কংগ্রেসের এক তরুণ নেতা বলেন, ” প্রদীপ্তর গ্রেফতারি প্রসঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। অধীর চৌধুরীরও কোনও যোগ নেই। তবে দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কী করে অ্যাডমিন আছেন তা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights