সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ রাত পোহালেই ঠিক হয়ে যাবে কার হাতে থাকবে দেশের আগামীর ভার। যদিও সময় থেমে থাকে না। দেশজুড়ে নির্বাচন কমিশনের নজরদারিতে ভোট গণনা কেন্দ্রে কড়া প্রহরার পাশাপাশি রয়েছে চরম ব্যস্ততা। নির্বাচনী এজেন্টদের চোখ স্ট্রংরুমের দিকে। প্রার্থীদের কারও মুখে হাসি, কারও বুক করছে দুরুদুরু। এরইমধ্যে সর্বভারতীয় একটি দৈনিক ভর সন্ধ্যায় পাঠিয়েছে আর এক বার্তা।
কংগ্রেস পরিচালিত ইন্ডিয়া ব্লক না কি নরেন্দ্র মোদির এনডিএ- কার হাতে দেশের ভবিষ্যৎ সঁপে দেবে জনতা তা তো সময় বলবে। তার আগে টানা প্রচারেও দুই দলের দুই নেতা রাহুল গান্ধী ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ডিজিটালি মল্লযুদ্ধ হয়েছে কেই বা তা জানত। সেই বার্তাই ফুটে উঠেছে ওই দৈনিকে।
১ এপ্রিল থেকে ৩০ মে পর্যন্ত টানা ভোট প্রচারে রাজনৈতিক দলগুলি এবার ফ্লেক্স, হোর্ডিংয়ের থেকেও বেছে নিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়াকে। প্রায় প্রত্যেক দলেরই নিজস্ব একটি সোশ্যাল মিডিয়া টিম আছে। আজ জনতার কাছে তা স্পষ্ট। সেখানে চলতি নির্বাচনে দুই নেতা রাহুল গান্ধী ও নরেন্দ্র মোদি একে অপরকে টেক্কা দিয়েছেন কখনও লম্বা ভিডিও বানিয়ে, কখনও চট জলদি শর্টস বানিয়ে কখনও বা রিলসের দুনিয়ায়।
The Indian Express-এর সাংবাদিক তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন প্রচার পর্বে ১ হাজার ২২২টি লম্বা ভিডিও বানিয়েছেন মোদি। সেখানে প্রত্যেকটি ভিডিওর গড় ভিউ ৪৪ হাজার। আর রাহুল গান্ধী মাত্র ১৮টি লম্বা ভিডিও ভোট প্রচারের জন্য বানিয়েছেন। আবার মোদি ইউটিউবে শর্টস বানিয়েছেন ২৫৮টি। সেই ভিডিওর ভিউস ৮.৫ লক্ষ। যা তাঁর লম্বা ভিডিওর ভিউসের দ্বিগুণ। হলে কী হবে? রাহুল গান্ধী ১৮৫টি শর্টস বানিয়ে মোদিকে এক ধাক্কায় অনেকটা পিছনে ফেলে দিয়েছেন। কোটির ঘরে নিয়ে গিয়েছেন ভিউয়ারস। তাঁর শর্টসের ভিউয়ারস ৬৭ কোটি। এর থেকে পরিস্কার লম্বা ভিডিওর তুলনায় শর্টসে ভরসা কংগ্রেসের বেশি।
মোদিও কম যান কিসে? ইন্সটাগ্রামে রিলস বানিয়ে রাহুলকে ফের ধরাশায়ী করেছেন তিনি। তাঁর ৩৭টি রিলসের ভিউয়ার্স একশো কোটি। প্রত্যেক রিলসের গড় ভিউয়ার্স প্রায় ২.৭ কোটি। রাহুলের শর্টসের ভিউ ৮২.৬ কোটি। কংগ্রেসের কমিউনিকেশন ওয়ার-রুমের চেয়ারপার্সন বৈভব ওয়ালিয়া ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, ” চলতি বছর হোয়াটস অ্যাপের থেকে মানুষজন ইন্সটাগ্রাম বেশি পছন্দ করেছে। তাই রিলসের উপরে ভরসা রাখা হয়েছিল।” আর তার জন্য দুহাজার কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। যাদের কাছে স্পষ্ট নির্দেশ ছিল দৈনিক একশোটি রিলস আর শর্টস কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে যেন পোস্ট করা হয়। এক সিনিয়র বিজেপি নেতা বলেছেন, “আমরা ডিজিটাল প্রচারের ৪০-৭০ শতাংশ ইউটিউব ও ইন্সটাগ্রামে শর্টস ও রিল ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়েছিল। তার পাশাপাশি কোনও কোনও এলাকায় আমরা শেয়ার চ্যাটও ব্যবহার করেছি।”
এর পাশাপাশি ওই ইংরেজি দৈনিক জানিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপে মোদির ফলোয়ারস ১৩.৬ মিলিয়ন রাহুলের ফলোয়ার্স ৬.৭ মিলিয়ন। সেই ফলোয়ার্সরা ইভিএমে কাল কতটা প্রভাব ফেলবেন না কি আদৌ কোন প্রভাব ফেলবেন না সেইদিকে তাকিয়ে আসমুদ্রহিমাচল।
আরও পড়ুনঃ বিশ্ব রেকর্ড ভারতের