
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস মিলিয়ে রাতভর টানা বৃষ্টিতে ভিজল মুর্শিদাবাদ। দিনেও দফায় দফায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হয়েছে শুক্রবার। জেলার চার কৃষি মহকুমায় গড়ে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৫১.৯ মিলিমিটার। সবথেকে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে বহরমপুরে। শুক্রবার সেখানে গড়ে ৩৭০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। লালবাগের গড় বৃষ্টিপাত ৩৪৯ মিমি। কান্দিতে ১১৩ মিমি। জঙ্গিপুরে বৃষ্টি হয়েছে গড়ে ২০৫ মিমি। বহরমপুর ব্লকে গড় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৮৭ মিলিমিটার।
আইএমডি (Indian Meteorological Department) সূত্রে জানা যায়, আজ শনিবারও জেলার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি থেকে হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ঘন্টায় ১৬ কিলোমিটার বেগে উত্তর-পূর্ব দিকে ঝোড়ো বাতাস বইবে বলেও আগাম জানানো হয়েছে। দিনের তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেডের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। আগামীকাল রবিবার থেকে হাওয়া পরিবর্তনের কথা শুনিয়েছেন আবহবিদরা। দিনের তাপমাত্রা বাড়বার সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের দাবি, বৃষ্টি হলেও জমিতে জল জমে নি। সাধারণত নিচু জমিতে জল জমলে ফসলের ক্ষতি হয়। তবে এই বৃষ্টিতে ফসলের রোগের উপদ্রব বাড়বে বলেও মত তাঁদের। কৃষকদের জন্য বাংলা শস্য বিমাতে আবেদনের সময়সীমা ৩১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে গতকালকেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকে কৃষি আধিকারিকদের চাষে ক্ষতি নিয়ে চাষের জমি সমীক্ষা করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ” যেখানে চাষের জমি ক্ষতি হয়েছে সেখানকার কৃষকরা শস্য বিমার সুবিধা পাবেন।”
ঘূর্ণীঝড় “ডানা”-র প্রভাবে চলতি সপ্তাহের বুধবার থেকে হাওয়া পাল্টাতে থাকে। গত তিন দিনের মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলায় সবথেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে গত রাতে। তুলনামুলকভাবে পাশের জেলা নদিয়াতে তাপমাত্রা কম থাকবে। ওই জেলাতেও আজ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মুর্শিদাবাদের তুলনায় ওই জেলায় বেশি বৃষ্টিপাত হবে। গড় তাপমাত্রাও মুর্শিদাবাদের তুলনায় কম থাকবে বলে আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা যায়।