
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন মহকুমা তৈরির কথা জানিয়েছিলেন প্রশাসনিক সভায়। কিন্তু ওই বৈঠকেই তিনি জঙ্গিপুরের মহকুমাশাসক একম জে সিংকে নির্দেশ দিয়েছিলেন শমসেরগঞ্জে নিয়মিত বসতে, সে কথা অবশ্য প্রকাশ্যে বলেননি। সেই নির্দেশ মতো মহকুমা শাসক কাজের দিনের প্রথম অর্ধে বসছেন শমসেরগঞ্জে। দ্বিতীয় অর্ধে বসছেন জঙ্গিপুরে।
পুলিশ ও সাধারণ প্রশাসনের মধ্যে একটা ফাঁক ইদানিং প্রকাশ্যে আসছে সর্বত্র। কোনও থানায় কোনও ঘটনা ঘটলে তা অগোচরেই থাকছে এলাকার বিডিও বা এসডিও-র। কিন্তু তা বড় আকার নিলে প্রশাসনের অঙ্গ হিসেবে মাঠে নামতে হচ্ছে সেই বিডিও, এসডিওকেই। সাধারণ ও পুলিশ প্রশাসনকে ফের একতারে বাঁধতে সক্রিয় হচ্ছে রাজ্য।
শমসেরগঞ্জের মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের দফতরের একটি ঘর এখন হয়ে উঠেছে মহকুমা শাসকের দফতর। ক্ষতিগ্রস্থরা নিজেদের সুবিধা অসুবিধা জানাতে সেখানেই হাজির হচ্ছেন কাজের দিনে মহকুমা শাসকের কাছে। বিধায়ক আমিরুল ইসলাম বলেন, ” দিদি শমসেরগঞ্জে এসে জঙ্গিপুরের মহকুমা শাসককে এখানে বসতে বলে গিয়েছিলেন। তিনি আসছেনও।” মহকুমা শাসকও বলেন, ” কাজের দিন মানুষের কথা শুনতে নির্দেশমতো আপাতত এসডিপিও অফিসে বসছি।”
ক্ষতবিক্ষত শমসেরগঞ্জে এসে সেখানে আইনের শাসন ফেরাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন মহকুমা তৈরির। একইসঙ্গে জঙ্গিপুর পুলিশ জেলায় অতিরিক্ত একজন পুলিশ সুপারের পদও তৈরি করা হয়েছে সদ্য। এতদিন জঙ্গিপুর পুলিশ জেলায় একজন পুলিশ সুপার ও একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন। এখন সেখানে একজন পুলিশ সুপারের অধীনে দু’জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজ করবেন। একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেড কোয়ার্টার) মহম্মদ নাসিম আর একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) সৌম্যজিত বড়ুয়া। তাঁর দায়িত্বে ফরাক্কা, শমসেরগঞ্জ আর সুতি।

আরও পড়ুনঃ

মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) এর দায়িত্ব সামলেছেন সৌম্যজিত। তাঁকে অস্থির শমসেরগঞ্জের দায়িত্ব দিয়ে অনিমেষ রায়কে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সদ্য। বিধায়ক আমিরুল বললেন, ” তিনি কাজে যোগ দিয়েছেন।”
সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে মাস খানেক আগে হিংসার আগুন জ্বলেছিল মুর্শিদাবাদের প্রাচীন এই জনপদ। তা জনমানসে কতটা যে প্রভাব ফেলেছে তা প্রতি পলে টের পেয়েছে শাসক। শমসেরগঞ্জে জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার গোয়ান্দা বাহিনীর দফতর রয়েছে। সেখানে আছে মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের দফতরও। তথাপি পুলিশ পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ। আর তা ভাবিয়েছে রাজ্য প্রশাসনকেও। অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে এলাকায় পুলিশ ও নেতা দেখলেই তাঁদের পথ আটকাতে মানুষজন নেমে পড়ছিলেন রাস্তায়। এমনকি পুলিশ শাসকদলের হয়ে কাজ করেছে বলে বারবার অভিযোগ করেছে রাজ্যের শাসকদল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।
শমসেরগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্থরা বারবার দাবি করেছেন পুলিশ চারঘন্টা পরে ঘটনাস্থলে গিয়েছে। সেই পুলিশই এখন ধুলিয়ান শহর ও তার আশেপাশে থানার আইসি থেকে বিডিও-র ফোন নম্বর ছাপিয়ে কিছুটা অন্তর অন্তর ফ্লেক্স টাঙিয়ে দিয়েছে। শমসেরগঞ্জের এক বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম বললেন, ” আগে পুলিশের একটা ফোন নম্বর পাওয়া যেত না, কিন্তু ক্ষতির পর পুলিশ সাহায্য করতে যেন উঠেপরে লেগেছে। ক্ষতি তো যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে।” সেই অশান্ত এলাকার হাল ফেরাতে মহকুমা শাসককেই হাল ধরতে হয়েছে, বলছেন প্রশাসনের অভিজ্ঞ মহল।
ঘুরিয়ে বিষয়টি স্বীকার করে আমিরুল বলছেন, ” এখন পরিবেশ সম্পূর্ণ শান্ত এবং নিয়ন্ত্রণে। পুলিশ ও সাধারণ প্রশাসন মানুষের জন্য কাজ করে। উভয়েই এলাকায় মানুষের কাছে গিয়ে আশা ও ভরসা দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বাস ফেরানোর চেষ্টা করছে, ভবিষ্যতে এইরকম ঘটনা যেন আর না ঘটে।”
জাফরাবাদের বাবা ও ছেলের হত্যাকারীদের পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে ওয়াকফ আইনের আড়ালে পারস্পরিক হিংসার জেরেই খুন হয়েছেন তাঁরা। নিঃসন্দেহে যা চাপ বাড়িয়েছে শাসকদলের। সামনেই বিধানসভা ভোট। চোট কতটা গভীরে তা আন্দাজ করছেন এই রাজনীতিকও। তাঁকে ও জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমানকে শমসেরগঞ্জে বসিয়ে সুতিতে প্রশাসনিক সভা করেছেন মমতা। এই ক্ষতের দাগ না মিটলে ভোট বাক্স রদবদল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে শাসকদলের। আর তাই ক্ষতে প্রলেপ দিতে ‘উন্নয়ন’কে পথ্য ভাবছে তৃণমূল। ধুলিয়ানে তৈরি হচ্ছে জেটি, ওমরপুরে তৈরি হচ্ছে বহু আকাঙ্খিত বাস স্ট্যান্ড। ক্ষতিগ্রস্থদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছে চাল, ডাল নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও। ক্ষতিগ্রস্থ দোকানদার লতিজা বিবি অবশ্য বললেন, ” আমি কোনও সাহায্যই পাইনি
