‘আমরাও পারি’ মন্ত্রে ফিরতে পারে হারানো গৌরব

Social Share

জয়ন্ত দত্তঃ একজন শিক্ষানুরাগী হয়ে আমার খারাপ লাগা স্বাভাবিক, কেনো মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে মেধা তালিকায় ঠাঁই হচ্ছে না কারও? কারণটা শুধু Covid-এর কথা বা শিক্ষকের অভাব বা এতো ছুটি সরকারি স্কুলে এসব অজুহাত দিয়ে নিজেদের দায় এড়ানো যাবে না। তাহলে অন্য জেলা থেকে এতো ভালো ফলাফল হচ্ছে কী করে?

আমি যখন একটি স্কুলের দায়িত্ব নিয়েছিলাম সেখানে আমি শিক্ষক, শিক্ষিকাদের সাহায্য নিয়ে কীভাবে দশম শ্রেনীর ছাত্রদের এবং দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রদের চুড়ান্ত পর্যায়ে পরীক্ষায় বসার উপযুক্ত করে তোলা যায়, সেই চেষ্টা করেছিলাম এবং ফলও পেয়েছিলাম। শিক্ষকদের ভাবাতে পেরেছিলাম আমরাও পারি এইরকম একটি স্কুল থেকে ছাত্রদের রাজ্যে rank করাতে।

২০১৭ সালে প্রথম সফলতা পেয়েছিলাম উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে সপ্তম স্থান পেয়ে, তারপরে ২০২০,২০২২- এও রাজ্যে Rank করেছে ছাত্ররা, ২০২৩,২০২৪- এ রাজ্যে প্রথম দশে না হলেও বেশ কিছু ছাত্র রাজ্যে একাদশ, দ্বাদশ বা জেলায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় তো হয়েছে এবং একশো শতাংশ পাশ ও করেছে প্রায় ১৫ বছর ধরে।

আরও পড়ুনঃ মুর্শিদাবাদে পাশের হার কম মেয়েদের

ছাত্রদেরকে আমি ও শিক্ষকরা ভাবাতে পেরেছিলাম ওরা যদি Text বই খুঁটিয়ে পরে, সারা বছর স্কুলে আসে, স্কুলের পড়াটাকে মনোযোগ দিয়ে পরে তাহলে হাতেনাতে ফল মিলবে। টেষ্ট পরীক্ষার পরে যে অতিরিক্ত class করাতাম এবং যে পরীক্ষাগুলো নিতাম সেগুলো ওরা যে দিয়েছে তারই ফল ওরা পাচ্ছে।

এই জেলায় যথেষ্ট ভালো শিক্ষক আছেন যাঁদের সাহায্যে জেলার ছাত্রদের দিয়ে ভালো রেজাল্ট করানো যায়। শুধু প্রধান শিক্ষককে সেই শিক্ষকদের কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, কীভাবে ছাত্রদের ভালো নম্বর পেতে motivate করতে হবে, কোন কোন বিষয়ে ছাত্রদের আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে, পুরো সিলেবাস শেষ হবার পর শিক্ষকদের দিয়ে সব Subject এর প্রশ্ন তৈরি করে ছাত্রদের দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ানো, কোন কোন জায়গায় ভুল ত্রুটি হচ্ছে সেগুলো ঠিক করে দেওয়া এই মানসিকতা তৈরি করতেই হবে। ছাত্রদের নিয়ে ভাবতে হবে প্রধান শিক্ষককে, শিক্ষকদের ভাবাতে হবে কীভাবে ছাত্রদের দিয়ে রাজ্যে rank করানো যায়। এছাড়াও আমার একটা নিজস্ব মতামত যদি এই শহরের প্রধান শিক্ষকগণ গ্রহন করেন তাহলে ছাত্রদের উপকার হতো।

শহরের প্রধান শিক্ষকরা যদি গরমের ছুটির পরেই নিজেদের মধ্যে মিটিং করতে পারেন তাহলে সুবিধা হয়। প্রথমে বিভিন্ন স্কুলের প্রথম পাঁচ জন ছাত্র-ছাত্রীকে Select করে বিভিন্ন স্কুলের ৭টি subject এর অভিজ্ঞ, ছাত্রদরদী শিক্ষকদের ঠিক করে তাঁদের রাজি করিয়ে প্রতি সপ্তাহে অন্তত দু’দিন ওই পাঁচ জনকে পড়ানো, পরীক্ষা নেওয়া, খাতা দেখা, ভুলগুলো ঠিক করে দেওয়া, আরও কীভাবে উপস্থাপনা করলে পরীক্ষায় নম্বর বাড়বে এটা বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আর তা ২০২৫ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে পর্যন্ত। তাহলে মনে হয় রেজাল্ট ভালো হবে।

চেষ্টা করে দেখা যাক না ,শুধু নিজের স্কুলের কথা না ভেবে প্রধান শিক্ষকরা জেলার কথা ভাবলেই আর এই শহরের ৩০টি ভালো ছাত্র কে নিয়ে এই বছরই শুরু করলে দেখবেন ফল পাবেনই। তবে দায়িত্ব বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকদেরকেই নিতে হবে। ২০২৫এর মাধ্যমিক দেওয়ার আগে ৭টি বিষয়েরই কমপক্ষে ৬বার পুরো সিলেবাস এর ওপর পরীক্ষা নিতেই হবে।-এটা কোনও টোটকা নয়। এটা ধারাবাহিক অভ্যাস। হয়ত এটাই একমাত্র পথ নয়। নানান মতে সঠিক পথে এগোলে ফিরলেও ফিরতে পারে হারানো গৌরব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights