
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ চলতি বছর মার্চ মাসের ৩১ তারিখ অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয় আরএসপি’র জেলা সম্পাদক অঞ্জনাভ দত্ত। রবিবার তাঁর স্মরণ সভার আয়োজন করেছিল আরএসপি। জেলা বামফ্রন্টের সব নেতারাই সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন। দলের প্রাক্তন জেলা সম্পাদক বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য সম্পাদক তপন হোড়, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মনোজ ভট্টাচার্য, জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক জামির মোল্লা, ফরোয়ার্ড ব্লকের জেলা সম্পাদক বিভাস চক্রবর্তী, সিপিআই-এর জেলা সম্পাদক হারাধন দাস, এসইউসিআইয়ের জেলা সম্পাদক গৌতম সাহা সহ অন্যরা।
সেই সভায় রবিবার আরএসপি’র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মনোজ ভট্টাচার্য কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে বলছিলেন ” মনে রাখবেন সবচেয়ে খারাপ সময়ই, সবচেয়ে ভাল সময়।” আর তার কিছুক্ষণ পরেই ওই স্মরণ সভাতেই জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক জামির মোল্লা ঘোষণা করেন ” দৌলতাবাদ সমবায়ে আমরা ৩৯-৪ ভোটে জিতেছি।” নিঃসন্দেহে এই ফলাফল, শূন্য বামেদের ২০২৬-এর নির্বাচনে অক্সিজেন জোগাবে বলে মনে করেন রাজনীতির কারবারিরা।

একটা সমবায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দৌলতাবাদ। কংগ্রেস আর তৃণমূল দু-পক্ষের মারামারিতে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে পুলিশকে লাঠিচার্জ পর্যন্ত করতে হয়েছে। আর দিন শেষে ‘মানুষের রায়ে’ দৌলতাবাদ সমবায় জিতল বাম-কংগ্রেস জোট। হেরে গেল তৃণমূল। প্রাক বর্ষায় শাসক শিবিরে যা বয়ে এনেছে তীব্র অশ্বস্তি।

৪৩ আসনের এই সমবায় নির্বাচনে জোটের পক্ষে ভোট পড়েছে ৩৯টি। আর ঘাসফুল পেয়েছে মাত্র চারটি ভোট। কংগ্রেস ১৯, বামেরা ২০টি আসন ভাগে পেয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে এই নির্বাচন করতে শাসক দল বাধ্য হয়েছে বলে দাবি জোট শিবিরের। তার আগে দীর্ঘদিন এই সমবায় ছিল বামেদেরই দখলে। নির্বাচনের মাধ্যমে ফের তাদের দখলে এই সমবায় আসায় খুশি বাম শিবির।
পরে জামির বলেন, ” এই সমবায় দখল করার জন্য নানাভাবে চক্রান্ত করেছিল এবং সন্ত্রাস চালিয়েছে শাসকদল। আমাদের লোকজন মারও খেয়েছে। তারপরেও এই জয় সাধারণ মানুষের জয়। মানুষ ওদের জবাব দিয়ে বাম ও কংগ্রেসকে সমবায় চালানোর যে দায়িত্ব দিয়েছেন তারজন্য এলাকার মানুষকে ধন্যবাদ জানাই।” কংগ্রেস নেতা মনোজ চক্রবর্তী বলেন, ” এটা ট্রেলার মাত্র। যদু বংশের মতো ধ্বংস হয়ে যাবে তৃণমূল।”
এদিন সব বাম নেতারাই রাজ্যের তৃণমূল ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁরা দাবি করেন, ” গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়াই করছে বামপন্থীরা। আর তাকে আটকানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে ওরা। দক্ষিণপন্থার রাজনীতি যখন মাথাচারা দিচ্ছে সেই বড় কঠিন সময়ে অঞ্জনাভ’র মৃত্যু হয়েছে। যা দল ও বামফ্রন্টের ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি। ” ছোট হলেও ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে দৌলতাবাদের এই জয় ভেঙে পড়া বামফ্রন্টে মনোবল বাড়াবে বলেই মনে করে পর্যবেক্ষক শিবির।
RSP জিন্দাবাদ
বামফ্রন্ট জিন্দাবাদ
কমরেড অঞ্জনাভ দত্ত অমর রহে