বইমেলার আমন্ত্রণ পেলেন না মন্ত্রী, সভাধিপতিও

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্রঃ রাত পোহালেই শুরু হবে জঙ্গিপুর বইমেলা। তার আগেই বিতর্কে জড়ালেন এই মেলার আয়োজকরা। ম্যাকেঞ্জি পার্ক ময়দানে চলতি মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত সাতদিন ধরে চলবে এই মেলা। কিন্তু সেই বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পত্রে নামই নেই সভাধিপতি রাবিয়া সুলতানার। নাম নেই মুর্শিদাবাদ জেলার একমাত্র মন্ত্রী আখরুজ্জামানেরও। নাম নেই জঙ্গিপুর মহকুমার জেলা পরিষদের কোনও সদস্য, এমনকি কর্মাধ্যক্ষেরও। আর তাই নিয়ে ফের সামনে এসেছে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল। অভিযোগ, বইমেলার আয়োজকরা বিধায়ক জাকির হোসেন ঘনিষ্ঠ। তাই আমন্ত্রণ তালিকায় নাম নেই সুতির বিধায়ক ইমানি বিশ্বাসের নিকটাত্মীয় সভাধিপতি ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৩ সালে প্রথম বইমেলা শুরু হয় জেলায়। আর তা শুরু হয়েছিল মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহকুমায়। সেটাও ছিল মহকুমা বইমেলা। চলতি বছরের বইমেলার আমন্ত্রণ পত্রে অবশ্য লেখা হয়েছে এবার ১৯ তম জঙ্গিপুর বইমেলা। ‘নতুনরূপে’ জঙ্গিপুর বইমেলা কমিটি আয়োজিত এই বইমেলার সহযোগিতা করছে পুরসভা। বইমেলার উদ্বোধক হিসেবে আমন্ত্রণ পত্রে নাম রয়েছে সাহিত্যিক অর্ণব সাহার।

আর সেই আমন্ত্রণ পত্রে জেলার পুলিশ সুপার, সাংসদ তথা তৃণমূলের জঙ্গিপুর সংগঠনের সভাপতি খলিলুর রহমান, জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেনের নাম রয়েছে প্রধান অতিথির তালিকায়। আর ‘গৌরবময় উপস্থিতি’র তালিকায় রয়েছে দুই পঞ্চায়েত সমিতি রঘুনাথগঞ্জ ১ ও সুতি ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির। সঙ্গে আটটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের নাম। এছাড়াও পুলিশ ও সাধারণ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নামও আছে তালিকায়। কিন্তু নাম নেই মন্ত্রী আখরুজ্জামান কিংবা সভাধিপতির। এমনকি জাকির বাদ দিয়ে উত্তরের কোনও বিধায়কদেরও। নাম নেই পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সন্তোষ চৌধুরীরও। যাঁর সঙ্গে দিন কয়েক আগে বচসায় জড়িয়েছিলেন বিধায়ক জাকির।

আখরুজ্জামান অবশ্য বলেন, “বিষয়টি আমি জানি না। কোনও আমন্ত্রণ পত্রও পাইনি। আপনার মুখেই প্রথম শুনলাম বইমেলার কথা। যারা আয়োজন করেছে তারাই বলতে পারবে কেন আমার নাম সেখানে নেই।” জেলা পরিষদের সদস্য অশেস ঘোষ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ” যারা বইমেলার আহ্বায়ক তারা দুধ বিক্রি করে জীবন তৈরি হয়েছে। এরা পড়াশোনার কী বুঝবে? যাদের নাম তালিকায় আছে সেইসব প্রধানদের ডিগ্রি দেখলে আমন্ত্রিত প্রকাশকরা ভয় পাবেন।” তিনি আরও বলেন, ” আমন্ত্রিতদের তালিকায় নাম নেই সোহারাব হোসেনের মতো প্রাক্তন বিধায়ক, শিক্ষক, জেলাপরিষদের মেন্টরের। নাম নেই মন্ত্রীর। নাম নেই সভাধিপতিরও। অন্যান্য বিধায়কদেরও। এদিকে জঙ্গিপুর বইমেলা হচ্ছে। হাস্যকর লাগছে। ” ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “এই মেলার যিনি আহ্বায়ক তিনি সিপিএম থেকে এসে আমাদের দলে ভিড়েছেন কিন্তু দলের সদস্যপদ নেননি।”

তালিকায় কেন নেই জেলার ভিভিআইপিদের নাম। এক আহ্বায়ক বিকাশ নন্দ অন্য আহ্বায়কের দিকে বল ঠেলে বলেন, “এ ব্যাপারে গৌতমবাবুকে জিজ্ঞাসা করুন।” গৌতম ঘোষকে পরিচয় দেওয়ার পরেও বলেন, ” আপনি কে? আপনাকে চিনি না, জানি না কেন এই বিষয়ে উত্তর দিতে যাব?” সাংসদ খলিলুর রহমানের মেজো ভাই জৈদুর রহমান দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানে ব্যস্ত থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ কোন প্যাঁচে জাকির ? জিজ্ঞাসা মুর্শিদাবাদের উত্তরে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights