নির্মল পরিবেশ নেই দেখে এলেন চিকিৎসক

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী বস্তি মুক্ত ভারতের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন দেশবাসীকে। বিজেপি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘সব কা সাথ সব কা বিকাশ’ ফেরি করছেন। তাঁর দলেরই বহরমপুরের প্রার্থী প্রচারে বেড়িয়ে দেখে এলেন নির্মল পরিবেশ নেই গান্ধী কলোনিতে।

রাধিকা মোহন সেন রোড থেকে হেঁটে গেলে গান্ধী কলোনি বড়জোড় মিনিট দশেক। নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি যুগেও কলোনির বাসিন্দারা গায়ে গা লাগিয়ে কাটিয়ে দেন বছরের পর বছর। সেখানেই ভোট প্রচারে গিয়েছিলেন নির্মল সাহা। পেশায় চিকিৎসক নির্মল ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি’র বাজি। থাকেন রাধিকা মোহন সেন রোডে।

এই কলোনি থেকেই মানুষজন একসময় জেলা হাসপাতালে (এখন যা মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল) যেতেন তাঁর কাছে চিকিৎসা করাতে । শল্য চিকিৎসক হিসেবে নির্মলের সুনাম জেলা জুড়ে। এদিন প্রচারে গিয়ে কেউ কেউ তাঁকে দেখে এগিয়েও এলেন। পরিচয় দিলেন কবে কোন সালে তাঁর কোন অস্ত্রোপচার করেছিলেন সেই চিকিৎসক, ইত্যাদি।

কিন্তু কলোনির রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে হোঁচট খেলেন নির্মল। চাক্ষুষ করলেন, যে রান্নাঘরে ফুটছে গরম ভাত তার এক হাত দূরে শৌচালয়। এখানে আচ্ছে দিন আসে নি। সব কা বিকাশ তো দূর অস্ত। নির্মল বললেন, “যে জমিতে এরা মাথা গোঁজার ঘর তুলেছে তা খাস জমি। এই জমি ওরা নিজের নামে করতে পারবে না। আর তা না করতে পারলে মিলবে না প্রধানমন্ত্রীর গৃহ আবাস।”

মুখোমুখি নির্মল সাহা

২০২৪-এও মেটেনি জলকষ্ট। ভোট আসে ভোট যায় কিন্তু কলোনির বাসিন্দাদের ভোটের মূল্য আছে নেই জীবনের মূল্য, খেদ স্থানীয় বাসিন্দা এক প্রৌঢ়ের। নাম বলতে ভয় পেলেন। “পাছে কারও নজরে পরে এই বয়সে হয়রান হতে হয়, তাতে লাভ কী? নামে কী এসে যায়? শুধু মনে রাখবেন আমাদের টালির ছাদের নীচে রাখা আছে সচিত্র পরিচয় পত্র।” এতো হুমকি? হেসে ফেললেন। বললেন, “আমরা হুমকি পাই। দিতে পারি না। কিন্তু ভেতরে জ্বালাটা তো নিভবে না। তবে আর যাই হোক এ জন্মে আর নগরবাসী হয়ে উঠতে পারলাম না। আক্ষেপটা থেকেই গেল।”

গান্ধী কলোনি লাগোয়া ভাগীরথী। এই ভাগীরথীর জলে সাঁতার কেটে খ্যাতি কুড়িয়েছে বিশ্বনাথরা। এখান থেকেই কোনও কোনও মেধাবী অক্ষরে ভর করে এগিয়ে গিয়েছে জীবনের পথে। তবু এখানে তারা গৃহহীন। ওই বৃদ্ধের আরও দাবি, “তাই তো যে যখন আসে তখন চালা ভেঙে দিয়ে চলে যেতে পারে। আমাদের দাবি বলে কিছু নেই।”

কথা প্রসঙ্গে নির্মল বলছিলেন, “এই জায়গায় সরকারের পক্ষ থেকে বহুতল তৈরি করা যেতে পারে। যেখানে এরা স্থায়ী ঠিকানাও পাবে আবার পরিবেশটাও বদলাবে।” আবার এটাও জানাতে ভোলেন নি তিনি “এখানেই ৩৫০টি পরিবারের রান্না হয় সরকারের উজালা গ্যাসে।”

পড়ুনঃ ভোটের নিরাপত্তায় মহকুমাশাসকদের ডেপুটেশন দিল এবিটিএ

2 thoughts on “নির্মল পরিবেশ নেই দেখে এলেন চিকিৎসক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights