রবিবারের রণংদেহি যুবভারতী নিয়ে পুলিশের চাঞ্চল্যকর দাবি

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ একপ্রকার নজিরবিহীন ভাবে যুযুধান দু-পক্ষকে এক হতে দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছে ফুটবল দুনিয়া। আরজিকর ইস্যুতে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান সমর্থকরা হাতে হাত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নজিরবিহীন ভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাকে। যা নিয়েও মোটেও অবাক হননি দুই দলের সমর্থকরা। বরং তাদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে পাশে থেকেছে মহমেডানও। খেলার মাঠের আবেগ দেখেছে কলকাতা। আজ দুই দলের সমর্থকরা পুলিশের লাঠির বাড়ি খেয়েও দুহাত তুলে দাবি তুলেছে “ডার্বি কাড়বি কেড়ে নে/ মেয়েটাকে ফিরিয়ে দে।”

প্রায় ঘন্টা চারেক ধরে চলেছে আন্দোলন সঙ্গে পুলিশের ধরপাকড়ও। তবুও টলেনি আবেগ। বরং জোড়াল হয়েছে ” জাস্টিস ফর আরজিকর।” এদিন তিন দলের সমর্থকদের আন্দোলনকে নাগালে রাখতে স্টেডিয়াম থেকে দুশো মিটার দূর পর্যন্ত ছড়ানো ছিল বিরাট পুলিশ বাহিনী। সমর্থকরা প্রশ্ন তুলেছেন, “এত পুলিশ থাকা সত্বেও নিরাপত্তার অভাব দেখিয়ে ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছি।পুলিশের এত গায়ের ঝাল কিসের। মেয়েদেরও বাদ দিল না লাঠির আঘাত হানতে।”

বিধাননগর পুলিশের দুই শীর্ষ কর্তা অবশ্য সন্ধ্যায় রবিবারের পুলিশি সক্রিয়তার জবাব দিলেন। সাংবাদিকদের সামনে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন তাঁরা। বললেন, ” যুবভারতীর আজকের ম্যাচে অস্ত্র-বোমা নিয়ে তাণ্ডবের ছক কষেছিলেন দুষ্কৃতিরা। তাই নিরাপত্তার কারণেই আজকের ম্যাচ বাতিল করতে হয়েছে।” সন্দেহজনক দুই ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলেও তাঁরা দাবি করেছেন। তাঁদের দাবি, ” যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে দুই প্রধানের সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ এই প্রতিবাদ-জমায়েতেও অস্ত্র এবং বোমা নিয়ে একদল দুষ্কৃতির অশান্তি এবং বিশৃঙ্খলার ছক কষেছিল। তাই সমর্থকদের এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই স্টেডিয়াম চত্বরে জারি করা হয়েছে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা।” পুলিশ দুটি অডিও রেকর্ডও ফেসবুক ভিডিও শুনিয়েছে ওই সাংবাদিক সম্মেলনে।

একইসঙ্গে পুলিশ এও দাবি করেছে ওই পোষ্টে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে হস্তক্ষেপের কোনও প্রশ্নই তাঁদের ছিল না। তবে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে দুই ক্লাবের প্রধান ও সমর্থকদের অনুরোধ করেছেন পুলিশ কর্তা অনীশ সরকার। বলেছেন সকলকে সতর্ক থাকতে। ফেসবুক পেজেও একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, ” পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতিরা যেন অশান্তি না করতে পারে। লাল হলুদ এবং সবুজ মেরুন আমাদের সবার আবেগ, দুই প্রধানের সমর্থকরা আমাদের গর্ব। সেই আবেগকে ব্যবহার করে যাতে কিছু দুষ্কৃতি অশান্তি না বাধাতে পারে,সতর্ক থাকুন। আমরাও সতর্ক আছি। অডিওতে যাদের কথা শোনা যাচ্ছে, তাদের আমরা গ্রেফতার করেছি।”

ধৃত দুই দুষ্কৃতির ছবি পুলিশের ফেসবুক পেজেও আপলোড করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে ” আজ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-জমায়েতে অস্ত্র-বোমা নিয়ে অশান্তির ছক কষেছিল কিছু দুষ্কৃতি। উদ্দেশ্য, সমর্থকদের বদনাম করা। গোপন সূত্রে এ বিষয়ে কিছু অডিও-রেকর্ডিং আমাদের হাতে আসে। যার ভিত্তিতে আমরা দু’জনকে গ্রেফতার করেছি। মানিকতলার বাগমারির রাকেশ পাল এবং ব্যারাকপুরের শেখ সলমন। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে অশান্ত করার এই হীন প্রয়াসের বিরুদ্ধে আমরা প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

আরও পড়ুনঃ নাট্যকর্মীকে মারের হুমকি, বিতর্কে বিজেপি নেত্রী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights