
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন রাহুল গান্ধী। তৈরি হবে নতুন রাজ্য কমিটি। প্রদেশ সভাপতি পদে না ফিরলেও তাঁকে মেন্টর করে ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে নামতে চান সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেতারা। আগামী কালকের সেই বৈঠকে সে কথাও ঘোষণা করতে পারেন কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন, রাজ্যে কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গোলাম আহমেদ মীরও।
দিল্লির ভোটে প্রায় মুছে যাওয়ার পর সংগঠনকে মজবুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কংগ্রেসের ওপর তলার নেতারা। বিজেপিকে বেকায়দায় ফেলতে যে ইণ্ডিয়া জোট তৈরি হয়েছিল সেই জোটেই জট পেকেছে। কংগ্রেসকে দূর্বল করে নিজেদের শক্তিশালী করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে শরিক দলগুলি। যা ভাবিয়েছে সোনিয়া গান্ধীদের।
তৃণমূলও কংগ্রেসের চোখে সেই একই দোষে দুষ্ট। এই অবস্থায় দলকে শক্তভাবে না বাঁধতে পারলে নামেই টিকে থাকবে দল। সেই ভাবনা থেকে প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকে না সরিয়ে তাঁর মাথার উপরে অধীর চৌধুরীকে রেখে নির্বাচনে নামতে চাইছে ইন্দিরা ভবন, এমনটাই খবর সূত্রের।
২০২৪ এর সেপ্টেম্বরে পাঁচ বারের সাংসদ, দু’বারের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীরকে সরিয়ে শুভঙ্কর সরকারের মতো একজন অপেক্ষাকৃত তরুণকে প্রদেশের ভার দিয়েছেন রাহুল গান্ধীরা। বিধান ভবনে যাঁরা একে অপরের বিরুদ্ধ গোষ্ঠী বলেই পরিচিত। যদিও চলতি মাসের এক তারিখ যে রাজনৈতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় সেখানে অধীরকেই শপথ বাক্য পাঠ করানোর ভার দেওয়া হয়েছিল। কংগ্রেসের অনেকেই যা ইশারা বলেই ভেবেছেন।
কিন্তু গত ছ’মাসে তেমন কোনও কর্মসূচি নিতে পারেনি প্রদেশ যা নিচুতলার কর্মীদের অনুপ্রাণিত করতে পারে। স্থানীয় ইস্যূতে দু-চারবার পথে নামলেও প্রদেশ সভাপতির তৃণমূলের সঙ্গে জোট ভাঙার আগে ভাবা উচিত ছিল বলে যে মন্তব্য করেন তাতে ধন্দে পড়ে যান সেই নিচুতলার কর্মীরাই। এমনকি প্রদেশ সভাপতির ইচ্ছে নয় সিপিএম তথা বামফ্রন্টকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই হোক ছাব্বিশে।
নিচুতলার কংগ্রেস কর্মীদের একাংশও সেই পথে হাঁটতে রাজি। এই অবস্থায় শুভঙ্করের মাথার ওপর অধীরকে বসালে রাজ্যে শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে একটি মুখ অন্তত পাওয়া যাবে, যা পরোক্ষে নিচু তলার কংগ্রেসকে কিছুটা অক্সিজেন জোগাতে পারবে। প্রদেশ কংগ্রেসের এক নেতা জল্পনা উসকে বলেন, ” ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য একটি কমিটি তৈরি করা হতে পারে রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে। সেখানে অধীর বাবুও থাকবেন। তাঁর গুরুত্ব সর্বভারতীয় নেতারা অস্বীকার করেন না। আবার রাজ্যে অধীরবাবুই তৃণমূল বিরোধী একমাত্র শক্তিশালী মুখ। তাই তাঁর কথা আলাদা করে ভাবা অস্বাভাবিক নয়।”
পাল্টা আরও একটি মত উঠে আসছে। দুই নেতার মধ্যে মতের মিল না হলে সেক্ষেত্রে তৃণমূল সুযোগ পেতে পারে। সম্প্রতি অধীর চৌধুরীর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক প্রদীপ্ত রাজপন্ডিতকে পুলিশ “তোলাবাজি”র কারণে গ্রেফতার করেছে। যা নিয়ে কংগ্রেসের অনেকেই খুশি। তাঁদের একাংশের বক্তব্য ” আমরা দল করি। আমাদের ওপরে দাদার নাম বলে ছড়ি ঘোরাতেন ওই চাকুরীজীবি। এমনকি বিধায়ক পদে নমিনেশন পেতেও অনেকে ধৃতকে তৈলমর্দন করেছে অতীতে। যা আখেড়ে দলের ক্ষতি করেছে।” যদিও তা অবান্তর বলে দাবি জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেসের এক নেতা ।