ভাগীরথীর দু’পারে উড়ল দুটি নাম, অধীর না নির্মল?

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ ভাগীরথীর এপারে ওপারে সোমবার ঘুরে বেড়াল একটাই প্রশ্ন অধীর না নির্মল? বহরমপুর লোকসভা নির্বাচনে এবার বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী হয়েছেন অধীর চৌধুরী। তিনি পাঁচ বারের সাংসদ। এবার জিতলে তাঁর ডবল হ্যাট্রট্রিক হবে। অন্যদিকে আরএসএস ঘরানার নির্মল সাহা স্টেথো ছেড়ে এবারই প্রথম সংসদীয় রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছেন। আর এক প্রার্থী ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান তৃণমূলের হয়ে নির্বাচনী লড়াইতে নেমেছিলেন। কিন্তু জিততে মরিয়া ছিলেন কি না তা তাঁর ভোট সেনাপতিরাও জানেন না। তিনিও নবীন রাজনীতির উঠোনে।

আরও পড়ুনঃ ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বলে বিতর্কে বহরমপুরের আইসি

সংবাদ মাধ্যমে বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা যদি তাঁর ফাউল হয় তাহলে তাঁর হয়ে নির্বাচনের দিন আরও একটা ফাউল করেছেন তাঁরই ভোট সেনাপতি হুমায়ুন কবীর। ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ফের সংবাদ মাধ্যমে বেফাঁস মন্তব্য করে “বাজার গরম করেছেন।” স্বাভাবিকভাবেই ব্যলট বাক্সে তার প্রভাব পড়বে বলেই মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। যদিও নির্বাচন শেষে তিন প্রার্থীই ঘোষণা করেছেন তাঁরা সকলেই জিতছেন, নিজের নিজের অঙ্ক খাতা দেখিয়ে।

খাগড়া জিটিআই স্কুলের ৪৭ নম্বর বুথের মেশিন স্লো কাজ করা ছাড়া অন্যত্র তেমন কোনও দুঃসংবাদ আসেনি নির্বাচন কমিশনের দফতরে। হরিদাসমাটি এলাকা শেষের দিকে খানিক উত্তপ্ত হয়েছিল। ভরতপুরের ১৬৮ নম্বর বুথের প্রিসাইডিংকে সরানো হয়েছে। বড়ঞা, সালারে কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনাও ঘটেছে ঠিকই। কিন্তু তাও অন্য অনেক ভোটের নিরিখে যা কিছুই না। অধীর ঘুরলেন বুথে বুথে আপন মেজাজে। ঘুরলেন নির্মল সাহাও। বললেনও “আমার কোনও অভিযোগ নেই।” ইউসুফও ঘুরলেন বুথে বুথে। তারও অবশ্য কোনও অভিযোগ ছিল না। বেলা যত গড়িয়েছে ভোট শতাংশ ৭৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে। সব মিলিয়ে ৭৭ শতাংশের আশেপাশে ভোট পড়েছে বহরমপুরে।

তবে এত নিস্তব্ধ নির্বাচনও সাম্প্রতিক অতীতে হয়নি। যা নিয়ে ধন্দ থেকে গেল কিছু। ধর্মকে কেন্দ্র করে এ বঙ্গের ভোট যাত্রা শুরু হয়েছে ২০২১-এ। তার সম্পূর্ণ প্রভাব মুক্ত হয়ে ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচন হয়েছে, তা কেউ দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারে না। আর ওই অল্প ছোঁয়ায় থমকে গেল নির্বাচনের নিশ্চিত ফলাফল।

বেলডাঙা, শক্তিপুর, কান্দি, বড়ঞা, বহরমপুরের একাংশের নির্বাচকদের পছন্দ আর অপছন্দ ভোটের ফলাফলে ফারাক করবে বলে দাবি করলেন কংগ্রেস, বিজেপি উভয়েই। নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পদক্ষেপে নিজের ভোট নিজে দিতে পেরে হরিদাসমাটি, হাতিনগর, সুতির মাঠের মানুষজনের চোখে মুখে ধরা পড়ছিল ভোট দানের আনন্দ। সেখানেও উঠল আওয়াজ অধীর না নির্মল। অভিজ্ঞের নিরিখে এগিয়ে থাকলেন অধীর। দুয়োরে নির্মল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights